বাসস
  ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৮

কুড়িগ্রামে হিমেল হাওয়ায় স্থবির জনজীবন, কোল্ড ইনজুরিতে ফসল 

জেলায় কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ছবি: বাসস

শফিকুল ইসলাম বেবু

কুড়িগ্রাম, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কুড়িগ্রামে শীতের অপর নাম এখন দুর্ভোগ। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে বিপর্যস্ত নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ, যাদের জীবন-জীবিকা শীতের সঙ্গে সঙ্গে থমকে যাচ্ছে। তীব্র শীতের প্রভাব পড়ছে ফসলেও। কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছে ধান, আলু।

আজ সোমবার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ। 

এই আবহাওয়ার প্রভাবে শ্রমজীবী মানুষের কাজ কমে গেছে, অনেকের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, জেলায় ছড়িয়ে থাকা ৪৬৯টি চরে বসবাস করে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। দিনমজুর, জেলে ও কৃষিশ্রমিক নির্ভর এসব জনপদের মানুষের কাছে শীত মানেই অনাহার, অসুখ আর অনিশ্চিত জীবনের ভয়। এর উপর সীমিত সংখ্যক শীতবস্ত্র পাচ্ছে শীতার্তরা। তাই কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের মধ্যে ১৬ হাজারই বসবাস করেন চরাঞ্চলে।

অথচ এ বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য তিনি পেয়েছেন মাত্র ১০০টি কম্বল।

ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কালির আলগা চরের ইউপি সদস্য হোসেন আলী বলেন, তার ওয়ার্ডে প্রায় ৩ হাজার মানুষ বসবাস করলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র চারটি কম্বল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য চারটি কম্বল বিতরণ করা একেবারেই অসম্ভব বলেন জানিয়েছেন তিনি।

একইভাবে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান ৮ নম্বর ওয়ার্ড গোয়াইলপুরী চরে দেওয়া হয়েছে ৬টি কম্বল, ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঝুনকার চরে ৭টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ড পার্বতীপুর চরে ৬টি কম্বল দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। তাই চিকিৎসকরা সবাইকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন। 

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, জেলায় ২৯৭টি ক্লিনিক এবং নয় উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ভূরুঙ্গামাড়ী উপজেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, কালজানি ও দুধকুমার নদী অববাহিকার শিলখুরি, তিলাই, চর ভূরুঙ্গামাড়ী, সোনাহাটসহ অন্তত ১০টি ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শীতে যে শুধু মানুষ ও পশু পাখি আক্রান্ত হচ্ছে এমনটি নয়, ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এ সময়ে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অব্যাহত শীতের প্রভাবে জেলায় ৫৪ হেক্টর বোরো ধানের বীজতলা এবং ১ হেক্টর আলুর বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার পরিচর্যার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সূর্যের আলো স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, এ পর্যন্ত জেলার নয় উপজেলায় ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কম্বল কেনার জন্য ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগির শীতার্তদের মধ্যে আবার কম্বল বিতরণ করা হবে।