বাসস
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৭

ভোলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১০৭ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ভোলা গ্যাসক্ষেত্রের কূপগুলো থেকে দৈনিক ১০৭ এমএমসিএফডি গ্যাস সংগ্রহ করা যাবে।

বাপেক্সের এক কর্মকর্তা বাসসকে জানান, বর্তমানে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে ভোলার ছয়টি কূপ থেকে দৈনিক ৭৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৪৭ এমএমসিএফডি গ্যাস অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে, কারণ মূল ভূখণ্ডে শিল্পকারখানায় সরবরাহের জন্য কোনো পাইপলাইন বা সঠিক ব্যবস্থা নেই।

সরকার একটি প্রকল্পের আওতায় ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২ এবং ইলিশা-১ কূপ থেকে অতিরিক্ত ৬০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের জন্য একটি প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার নয়টি কূপ থেকে দৈনিক ১৮২ এমএমসিএফডি গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব, যা দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট কিছুটা লাঘব করতে পারে।

গত অন্তর্বর্তী সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ প্রস্তাবে শাহবাজপুর-৫, শাহবাজপুর-৭, ভোলা নর্থ-৩ এবং ভোলা নর্থ-৪ নামে চারটি অ্যাপ্রেইজাল-কাম-ডেভেলপমেন্ট কূপ এবং শাহবাজপুর নর্থ ইস্ট-১ নামে একটি অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এক ধাপের দুই খাম পদ্ধতিতে টার্ন-কি ভিত্তিতে এসব কূপ খনন করা হবে। প্রস্তাবের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০৭.২৯ কোটি টাকা।

চীনের সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কর্পোরেশনকে যোগ্য দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

বাপেক্স কর্মকর্তা জানান, চীনা কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও সাইট উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী জুলাইয়ে প্রকৃত কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে আরও অবদান রাখবে।