শিরোনাম

মজিবুর রহমান
শরীয়তপুর, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের জ্বীন মসজিদখ্যাত তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদটি ৪০০ বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য ধারণ করে জরাজীর্ণভাবে আজো দাঁড়িয়ে আছে। শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরত্বে এর অবস্থান।
কে কখন মসজিদখানা নির্মাণ করেছেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য কারো কাছে নেই। মসজিদ সংলগ্ন তালুকদার পরিবারের বংশ পরম্পরার দেয়া তথ্য অনুযায়ী এর বয়স ৪০০ বছর। মতান্তরে ৪৫০ বছর বলে জানা যায়।
মসজিদটি সম্পর্কে স্থানীয় নানা মিথ রয়েছে । প্রচলিত আছে, স্থানীয় কোন এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ শুরু করলেও নির্মাণ শেষ না হতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর অসমাপ্ত কাজ এক রাতের মধ্যে জ্বীনেরা করে দেন। জ্বীনেরা এখানে নামাজ, জিকির অসকার , ইবাদত বন্দেগী করতেন বলেও মিথ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনও বিশ্বাস করেন।
৪ শতাংশ জমির উপর নির্মিত চতুর্ভূজাকৃতির এ মসজিদটি কালের পরিক্রমায় সব কিছু হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে । এক গম্বুজ ও চারপাশে চারটি চিকন খুঁটির উপর ছোট খিলানাকৃতির গম্বুজ এর উপর কালের সাক্ষী হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জ্বীন মসজিদ।
এর চারপাশের মেঝে পাকা। মূল মসজিদ ভবনের প্রবেশ পথ চারটি। ভেতরের দেয়ালের কারুকাজে মোগল স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন রয়েছে। এখানে একসাথে ত্রিশজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে জুমা, পাঞ্জেগনা ও ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিম পাশে বিশাল পুকুর রয়েছে এবং পুকুরের পাকা ঘাট এখনো টিকে আছে। যা জ্বীন দ্বারা তৈরি বলে স্থানীয়রা জানান।
মসজিদের তত্বাবধায়ক সালাম তালুকদার বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের মুখে শুনেছি, এটা এক রাতে জ্বীনেরা তৈরি করেছে। জ্বীন তৈরি করেছে এ বিশ্বাস থেকেই সবাই এটাকে জ্বীন মসজিদ বলে থাকেন। তবে আমাদের কাছে তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ হিসেবেই পরিচিত।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘৪০০ বছর অতিবাহিত হলো কিন্তু মসজিদটি মেরামত করার উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক লোক আসে এখানে, মেরামতের কথা দিয়ে যায় কিন্তু পরে আর খবর নেয় না। টেলিভিশনে পত্রিকায় অনেক সংবাদ প্রচার হলো, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না।’
মসজিদের ইমাম নূর ইসলাম বেপারী বলেন, আমি ১৭ বছর ধরে এখানে ইমামতি করি। এটি ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ। তিনি সরকারের কাছে প্রাচীন এই মসজিদটি মেরামত করে ধ্বংসের হাত থেকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানান।