বাসস
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৪

কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জিও ব্যাগ পেল ৩০৬৪ কৃষক পরিবার

ছবি : বাসস

বান্দরবান, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : জেলার থানচি উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে ৩ হাজার ৬৪টি কৃষক পরিবারের মাঝে ১১টি করে জিও ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওয়ালিদ হোসেন শুভ থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আজ সকালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

জিও ব্যাগ হলো বিশেষ ধরনের শক্ত ও টেকসই ব্যাগ। যা জিও-টেক্সটাইল কাপড় দিয়ে তৈরি। এর ভেতরে বালি, মাটি বা পাথর ভরে সাধারণত নদী ভাঙন রোধ, বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়। তবে পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজে এর ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। 

কৃষকরা জানান, পাহাড় ধস প্রতিরোধ, সবজি চাষাবাদ ও জমি সংরক্ষণে এই ব্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সহনশীল জীবিকার জন্য সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে স্থানীয় এনজিও সংস্থা বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস)। সহযোগিতায় রয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং অর্থায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আয়োজকরা জানান, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে থানচি সদরে ৮১৬টি পরিবার, বলীপাড়ায় ১,০৫৪টি, তিন্দুতে ৫৮৩টি এবং রেমাক্রী ইউনিয়নে ৬১৬টি কৃষক পরিবার এ সহায়তা পাবে। প্রতিটি পরিবারকে ১১ টি করে জিও ব্যাগ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি এসব পরিবারকে আদা, সবজি ও মরিচসহ ৬ ধরনের বীজ প্রদান করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জিও ব্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পাহাড় ধস প্রতিরোধ এবং সবজি চাষ সম্প্রসারণে এটি কার্যকর হবে।

প্রধান অতিথি কৃষিবিদ মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের বিকল্প ও টেকসই কৃষি পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। এতে পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপকারভোগী পরিবারগুলো সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দাতা সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো, প্রেসক্লাবের সভাপতি অনুপম মারমা, বিএনকেএস প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর পেশল চাকমা, টেকনিক্যাল অফিসার হ্লাগ্যউ মারমা এবং কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দাশ গুপ্ত প্রমুখ।