শিরোনাম

\ শফিকুল ইসলাম বেবু \
কুড়িগ্রাম, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে জেলাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।
ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় নদী ও চরাঞ্চল ঢেকে থাকে। সূর্যের দেখা মিললেও তাতে উত্তাপ নেই। কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার মোট ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টি চরাঞ্চলে বসবাসরত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ শীতের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র ও দিনমজুর শ্রেণির।
রাতের বেলায় খোলা চরাঞ্চলে হিমেল বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়। অনেক পরিবার আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শীতের কারণে দিনমজুরদের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও হ্রাস পেয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।
জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর শীত মৌসুমে চরাঞ্চলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও দুর্গম চরাঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়।’
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ‘দরিদ্র মানুষের সুনির্দিষ্ট জরিপ না থাকায় শীতবস্ত্র বিতরণে কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ জন্য জেলার হতদরিদ্র মানুষের একটি হালনাগাদ ডাটাবেজ প্রয়োজন।’
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ শনিবার সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। তিনি বলেন, উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, শীতার্ত মানুষের সহায়তায় সরকারি উদ্যোগে জেলার নয়টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শীত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।