বাসস
  ২০ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৩৩

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া সাজু ও রেবতীর পরিবারে শোকের মাতম

ছবি : বাসস

সাতক্ষীরা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা নিউমার্কেটের মীর্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া আলিমুজ্জামান সাজু ও রেবতী সরকারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 

গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় তাদের বাড়িতে এ খবর পৌঁছানোর পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের মরদেহ অতিদ্রুত বাড়িতে ফিরিয়ে আনার দাবি দুই পরিবারের স্বজনদের।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে এবং রেবতী সরকার পার্শ্ববর্তী তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী। 

আলিমুজ্জামান সাজু একজন মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী ও কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে, রেবতি সরকার একজন গৃহিণী ছিলেন।

বরেয়া গ্রামের সাহেব আলী সরদার জানান, তাদের চার ভাইয়ের মধ্যে ঘের ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান সাজু (৪৮) সকলের ছোট। সেজো ভাই মাহামুদুন্নবী দীপু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে বসবাস করেন। মেঝ ভাই রাজু সরদার তিন বছর আগে, বাবা ইউনুস আলী সরদার আট বছর আগে ও মা আম্বিয়া খাতুন দুই বছর আগে মারা গেছেন। 

আলিমুজ্জামান সাজু বিয়ে করেননি। স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে বাড়ি বানিয়ে একাই থাকতেন তিনি। 

বাড়িটির নাম সরদার ভিলা। এক সপ্তাহ আগে সাজু কোমরের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। 

মঙ্গলবার ব্যাঙ্গালোর থেকে কলকাতার এসে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাজু মারা যান। 

তিনি আরও জানান, সাজুর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথমে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। এরপর কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনারের সঙ্গে হট লাইনে কথা বলেছেন।

সাজুর বন্ধু হাফিজুর রহমান জানান, সাজু এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় তার অনেক অবদান রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তার সাথে আমার কথা হয়। পরের দিন তার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল।

তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকার জানান, তাদের ছেলে অনিক সরকার ও মেয়ে তৃষা সরকারকে সাথে নিয়ে দুই মাস আগে তার স্ত্রী রেবতী সরকার (৩৮) ভারতে শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির কাছে চলে যায়। কয়েকদিন পর দেশে ফিরে এসে রেবতী গত ১২ আগস্ট আবারও ভারতে যায়। সেখানে ডাক্তার দেখানোর পর মঙ্গলবার কলকাতার একটি হোটেলে অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার ওই হোটেলের চার তলায় আগুন লাগে। এতে তার স্ত্রী রেবতী মারা যায়।

কলকাতার মুকুন্দপুর টেগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া সাজুর ভাগনে জামাই বেল্লাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে ওই হোটেলের তৃতীয় থেকে ৫ম তলায় আগুন লাগে। 

গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালের মর্গে সাজু ও রেবতীসহ নিহত সকলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশ যে হাইকমিশন আছে তারা মরদেহগুলোর ব্যাপারে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা মরদেহগুলো বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবেন।