বাসস
  ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৩

দেশের প্রথম বৈজ্ঞানিক এগ্রিভোলটাইক পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গায়

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : কৃষিজমি সংরক্ষণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে চুয়াডাঙ্গা সদরে দেশের প্রথম বৈজ্ঞানিক কাঠামোভিত্তিক ও গ্রিড-সংযুক্ত এগ্রিভোলটাইক পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

আজ (বুধবার) উদ্বোধন হওয়া এ প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জার্মানির ফেডারেল মন্ত্রণালয় ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড)-এর সহ-অর্থায়নে জিআইজেড বাস্তবায়িত ‘গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন-পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ (গেট-প্যাপ)’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ৪৯ দশমিক ৬ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন এ প্রকল্পে বর্তমানে কাঁচা মরিচের চাষ হচ্ছে এবং আগামী মৌসুমে ধান ও অন্যান্য মৌসুমি সবজির আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

জার্মানির ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট ফর সোলার এনার্জি সিস্টেমসের (আইএসই) কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটির মডেলিং, প্রযুক্তিগত নকশা, স্থাপন এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী ও সিস্টেম অপারেটরদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়, যেখানে সৌরব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, ছায়া-সহনশীল ফসল চাষ এবং ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের এনার্জি এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড কনজারভেশন শাখার যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, ভূমির বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না করেই দেশের টেকসই জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান উলরিখ স্টেপম্যান এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের ‘গ্রিন ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট’ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক তানজিনা দিলশাদ বক্তব্য দেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রকল্পের অবকাঠামো ব্যয়ের ৮০ শতাংশ জার্মানির কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ওয়েভ ফাউন্ডেশন প্রকল্পের স্পন্সর হিসেবে সৌরচালিত সেচকেন্দ্রে এটি স্থাপন করেছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। 

বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, চুয়াডাঙ্গার এ পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য, কৃষি উৎপাদনের ফলাফল এবং বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশে এগ্রিভোলটাইক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।