শিরোনাম

নাটোর, ১৪ জুন, ২০২৬, (বাসস): মেধাবী জাতি গঠনে জিংক বায়োফর্টিফাইড ধান চাষের প্রসার ঘটাতে জেলায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে প্রতিদিন বয়সভেদে নির্ধারিত মাত্রায় জিংক গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে সকল বয়সের মানুষের দেহে জিংকের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
এই অবস্থার উত্তোরণে বায়োফর্টিফিকেশনের মাধ্যমে জিংক ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ এই ধানের চাষাবাদ প্রসারের জন্য কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মেধাবী জাতি গঠনে বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। গর্ভবতী নারী ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি উল্লেখযোগ্যভাবে বিদ্যমান। এর ফলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই অবস্থার উত্তোরণে মাল্টি-সেক্টরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৪ হাজার ৫৬৯টি পরিবার তথা ২৪ হাজার গর্ভবতী নারী এবং ১৫ হাজার ১০০ শিশুকে জিংক বায়োফর্টিফাইড চাল ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (শস্য) কামরুন্নাহারের সভাপতিত্বে জিংক বায়োফর্টিফাইড ধানের চাষাবাদ কৌশল সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ সেশনে রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাটোর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নীলিমা জাহান, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো.আলী হোসেন, নিউট্রিয়াস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশের রিসার্স ম্যানেজার মো. জাকিউল হাসান প্রমুখ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নিউট্রিয়াস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে নাটোর সদর, নলডাঙ্গা, সিংড়া এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার ৪৫ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জিংক বায়োফর্টিফাইড ধানের উপকারিতা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান এবং সম্প্রসারণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পেয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে এই ধানের চাষাবাদ প্রসার ঘটাতে কাজ করে যাব আমরা।
উল্লেখ্য, চলতি আমন মৌসুমে নাটোরের চার উপজেলায় জিংক বায়োফর্টিফাইড বিনা ধান-২০ বীজ ৮০০ কৃষককে বিনামূল্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রদান করা হবে। হারভেস্ট প্লাস সলুউশনস্ নাটোর জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও ধানের বীজ প্রদানের দায়িত্বে কাজ করছে।