শিরোনাম

এসকে রাসেল
কিশোরগঞ্জ, ২৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৯ হাজার বেশি গবাদিপশু উৎপাদন হওয়ায় জেলার বাইরে পশু সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, উৎপাদিত পশুগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে কিশোরগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার। এর বিপরীতে জেলার বিভিন্ন খামার ও গৃহস্থ পর্যায়ে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার পশু। ফলে জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, জেলার খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করেছেন। অধিকাংশ পশু প্রাকৃতিক খাবার ও ঘাস খাইয়ে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পশুর সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১১০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। এসব হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছে। এসব টিম অসুস্থ্য পশু শনাক্তকরণ ও দ্রুত চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে।
খামারিরা জানান, গত কয়েক বছরে কিশোরগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু পালন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা নতুন নতুন খামার গড়ে তুলেছেন। তবে পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং লালন-পালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের বিষয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বাসস’কে বলেন, এবার জেলার বিভিন্ন খামার ও গৃহস্থ পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোরবানির পশু উৎপাদন হয়েছে। জেলার চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার। সে হিসেবে প্রায় ৩৯ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কুরবানির পশু পরিবহন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভেজালমুক্ত পশু নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে, যাতে অসুস্থ্য পশু দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া যায়।