শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১০ মে ২০২৬ (বাসস): ‘নিরাপদ বন্দর, সমৃদ্ধ দেশ' প্রতিপাদ্যে বর্ণিল আয়োজনে চট্টগ্রাম বন্দরে শুরু হলো ‘বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’।
আজ রোববার সকালে বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ। এরপর বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরাপদ অপারেশনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ও সমৃদ্ধ বন্দর উপহার দেওয়া এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
শুধু স্থাপনা নয় বন্দরের প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মচারী ও অংশীজন, সবার জানমাল, সম্পদ ও বন্দরের যন্ত্রপাতি সবকিছুকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসে নিরাপদ বন্দর নিশ্চিত করতে সপ্তাহব্যাপী বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬ পালন করছে।
বিশেষ অতিথি সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি এবং জরুরি রেসপন্স পরিকল্পনা জোরদার করেছে। এ ছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে যার ফলে যেকোনো দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান সপ্তাহব্যাপী নিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বন্দরের প্রাণশক্তি হলো পরিশ্রমী শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দর নিরাপত্তা সপ্তাহের মূল লক্ষ্য কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি, যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রেসপন্স নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বন্দর স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রাথমিক চিকিৎসাসংক্রান্ত মৌলিক ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সাইন এবং জরুরি নির্দেশনাসহ লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ যান চলাচল আরো নিরাপদ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।