শিরোনাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘খাল খনন কর্মসূচি : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ (জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান)’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে চাকসু ভবনে ‘ন্যাশনালিস্ট রিডিং সার্কেল’ এর ব্যানারে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক সভাপতি, হালদা রিভার রিসার্চ সেন্টার ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর এবং বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া।
আলোচনা সভায় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নদীমাতৃক বাংলাদেশে খাল পুনঃখননের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
ড. কিবরিয়া বলেন, ‘নদী বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের এই ভূখ- গড়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৪১৫টি নদী ও কয়েক হাজার খাল রয়েছে। আমাদের জীবন-জীবিকার এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যা নদী ছাড়া কল্পনা করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচিকে আমরা ‘জিয়া মডেল’ বলি। জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ২৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৮৫১ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছিল। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাশ্রমকে কাজে লাগিয়ে মাত্র দেড় বছরের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষকবলিত দেশকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে নদী-নালা ও খাল-বিল দখল ও দূষণের কারণে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের নদী, নালা, খাল ও বিল একে একে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছিল। পানিতে মাছের প্রজাতিও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যেমন, কর্ণফুলী নদীতে একসময় প্রায় ১৩৯ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন সেখানে মাত্র ৪-৫ প্রজাতির মাছ টিকে আছে। এছাড়া গ্রাম থেকে শহর সবখানেই জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের জনজীবন ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ড. কিবরিয়া বলেন, মানবদেহে রক্তপ্রবাহ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশের জন্য নদীও তেমন। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি এই কর্মসূচিকে ‘মাল্টি-ভিটামিন’ বলি।
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা কৃষি উৎপাদন শক্তিশালী করতে না পারলে আমাদের অর্থনীতি কখনোই দাঁড়াবে না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কোনো টেকসই অর্থনীতি না। একমাত্র টেকসই অর্থনীতি হলো কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি। আর নদী-খাল সচল রেখে নদীকেন্দ্রিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই টেকসই অর্থনীতি নির্মাণ সম্ভব।
তিন পর্বের এ অনুষ্ঠানে পরিচিতি, আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এবং শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন ফারহানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।