বাসস
  ১০ মে ২০২৬, ১৮:৪৩

ময়মনসিংহের ৭ শতাধিক ভূমি কর্মকর্তার বেতন বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ

ঢাকা, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস) : ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন ৩৫১টি ইউনিয়নের সাত শতাধিক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে টাইম স্কেল প্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গত ৬ মের এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদোন্নতি পাওয়ার কারণে টাইম স্কেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে নিম্নপদে থাকা সহকর্মীদের তুলনায় কম বেতন পাওয়ার অভিযোগে সৃষ্ট বৈষম্য নিরসনে উদ্যোগ নেয় ভূমি মন্ত্রণালয়।

এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যাদি সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাওয়ার পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে পদোন্নতিবিহীন কনিষ্ঠ সহকর্মীরা টাইম স্কেল সুবিধা পেয়ে তুলনামূলক বেশি বেতন পাচ্ছেন।

ফলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রশাসনিকভাবে এক ধরনের অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা থেকে পৃথকভাবে আবেদন ও তথ্য পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, পূর্ব পদে প্রাপ্ত প্রথম টাইমস্কেলের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় টাইম স্কেল সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

এজন্য তারা বর্তমান পদে প্রথম টাইম স্কেল বাবদ উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুনরায় সুবিধা প্রাপ্তির আবেদন করেন।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি নিয়ে মতামত চাওয়া হলে বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক, ময়মনসিংহ মতামত দেন যে, জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯ কার্যকরের পর শুধু ‘পদোন্নতি না হওয়ার’ ভিত্তিতে নিম্নপদের টাইম স্কেল দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে পদোন্নতির কারণে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা টাইম স্কেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে কনিষ্ঠদের তুলনায় কম বেতন পাওয়ায় সৃষ্ট বৈষম্য দূরীকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগের ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও চেকলিস্ট সংযুক্ত করে বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে স্মারকে উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এই জটিলতা নিরসন হলে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ভূমি কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।