বাসস
  ১০ মে ২০২৬, ১৬:৪৫

নাটোরে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে ফিরেছে স্বস্তি

ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন

নাটোর, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার সদর উপজেলায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার ফলে জনমনে ফিরেছে স্বস্তি। হাম উপসর্গ নিয়ে নাটোরে কোন মৃত্যু বা জটিলতা নেই বর্তমানে। 

দেশের বিভিন্ন জয় হামের প্রার্দুভাব দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে নাটোর সদর উপজেলাসহ দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে হামে’র বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় নাটোর পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২০ হাজার ২৭৩ জন শিশুকে হামে’র টিকা প্রদান করা হয়। পরে ২০ এপ্রিল থেকে জেলার অবশিষ্ট ৬টি উপজেলাতেও হামে’র টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়, চলবে ২০ মে পর্যন্ত।

জেলায় সন্দেহজনক মোট হামে’র রোগী ২১৭ জন। এরমধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ২৮ জনের হাম। বর্তমানে শুধুমাত্র ২৫০ শয্যার নাটোর জেনারেল হাসপাতালে হামে’র উপসর্গ নিয়ে ২২ জন রোগী ভর্ত্তি আছে। ভর্ত্তিকৃত সকলেই শঙ্কামুক্ত।

২৫০ শয্যার নাটোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুমনা সরকার বাসস’কে বলেন, সাধারণত শিশুরা শরীরে হাম, সর্দি-কাশি এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসলে প্রয়োজন হলে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি। আবার অনেক শিশুকে ভর্তি করার প্রয়োজন হয় না বলে তাদেরকে ভিটামিন এ ক্যাপসুলসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করি। 

তিনি বলেন, গতকাল শনিবার ভর্তি ২৬ শিশুর মধ্যে আজ ৪ শিশুকে ছুটি দিয়েছি, তারা সুস্থ্য হয়ে বাড়ি গেছে। আজ পর্যন্ত ভর্তি আছে ২২ জন, তারা সকলেই শঙ্কামুক্ত। ৫ এপ্রিলের পর থেকে এ পর্যন্ত কোন শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ বা অন্য কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।

নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাসস’কে বলেন, টিকা গ্রহণের পরবর্তি ১৪ দিন পর্যন্ত হামের পরীক্ষা করা যাবেনা।

টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকার প্রেক্ষাপটে আগামী ৩০ জুনের পরে ঢাকা’তে হামে’র পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বাসস’কে বলেন, নাটোর সদর উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ শিশুকে হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনমনে ফিরেছে স্বস্তি।