বাসস
  ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১৬
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৭

বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু

আজ বগুড়া শহরের পৌর পার্ক ও শহীদ টিটু মিলনায়তন চত্বরে পাঁচদিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: বাসস

বগুড়া, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস): আজ পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি, শেকড়ের টান আর উৎসবের আমেজে বগুড়ায় শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩'। 

স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি আজ সকালে পৌর পার্কে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদীয় আসন ৪১ (বগুড়া-৬) এর সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা।

বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরাম ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো শহর এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বৈশাখি শোভাযাত্রা, লোকজ গান আর ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গে সেজেছে পৌর পার্ক, শহীদ টিটু মিলনায়তন প্রাঙ্গণ এবং শহীদ খোকন পার্ক। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, ‘বগুড়া কেবল একটি জেলা নয়, এটি উত্তরবঙ্গের হৃৎপি-। আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বিশ্ব-দরবারে তুলে ধরতে এই বৈশাখি মেলা এক অনন্য প্ল্যাটর্ফম। বর্তমান সরকার বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের একটি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বগুড়াবাসীর জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বগুড়ার সবজি ও কৃষি পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুবিধার্থে বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। বিশেষ করে কার্গো বিমান ওঠানামার জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের কাজ শিগ্গিরই শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চলের দূরত্ব ১৩৬ কিলোমিটার কমে আসবে। আগামী জুলাই মাসেই এর নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে একে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হচ্ছে। এখানে কৃষি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা অনুষদসহ সব বিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রাজপথ মাতানো এক বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। পহেলা বৈশাখের এই শোভাযাত্রায় বাঙালির হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য চিত্রময় হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল বিশাল আকৃতির কালো হাতি এবং সুসজ্জিত সাদা ঘোড়া। গ্রামীণ বাংলার স্মারক হিসেবে পালকি, মাছ, দোয়েল পাখি এবং শাপলা ফুলের বড় বড় প্রতিকৃতি সবার নজর কাড়ে। বীরত্বের প্রতীক হিসেবে ছিল বিশালাকার রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং শান্তির দূত হিসেবে সাদা পায়রা ও ময়ূরের প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আগামী ৫ দিনব্যাপী এই মেলায় শহীদ টিটু মিলনায়তন ও পৌর পার্কে থাকছে নাগরদোলা, লোকজ মেলা, কুটির শিল্প প্রদর্শনী এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বগুড়ার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উৎসবে যোগ দিচ্ছেন। 

আয়োজকদের মতে, এই মেলা কেবল বিনোদন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির খাঁটি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার এক সেতুবন্ধন।