বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১৯

শেষ মুহূর্তের প্রচারণা: বিএনপি’র দূর্গে হানা দিতে চায় জামায়াত

ছবি : বাসস

বগুড়া, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে।

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যস্ততা বহুগুণে বেড়েছে। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও অলিগলি। উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা, প্রচার মিছিল ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রার্থীরা প্রতিদিনই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

জেলার আসনগুলোতে নয়টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি’র ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এ দ’ুটি দলই ভোটারদের কাছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা দিয়েছে। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের আড্ডায় এখন বিএনপি ও জামায়াতকে ঘিরেই আলোচনা চলছে।

বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বগুড়ার সাতটি আসনই দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, তারা সব আসনেই ভালো ফল করার ব্যাপারে আশাবাদী। 

নির্বাচনি প্রচারণায় ইতোমধ্যে জেলার রাজনৈতিক মাঠ বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রার্থীদের ভিডিও বার্তা ভোটারদের নজর কাড়ছে।

জানা গেছে, বগুড়া জেলা ১২টি উপজেলা ও ১১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। জেলায় জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন সংখ্যা সাতটি। মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন। নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪২ জন। এবারে নির্বাচনে ৯টি রাজিনৈতক দলের মোট ৩৪ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তে সব প্রার্থীই ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

দিন-রাত সমান তালে তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তবে বগুড়ার আসনগুলোতে মুল লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজার ও বিভিন্ন আড্ডায় আলোচনা রয়েছে বিএনপি-জামায়াত।

দল দু’টি নদীভাঙন ও কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, নারীদের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান, রেল যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াখাতসহ বগুড়ার উন্নয়নে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। ভোটাররা বলছেন, আমরা এমন প্রতিনিধি চাই, যিনি শুধু রাজনীতি করবেন না। বগুড়াসহ সারা দেশের উন্নয়ন করবেন।

এদিকে বগুড়াকে বিএনপি’র দুর্গ বলা হলেও এই দুর্গে হানা দিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। বিগত নির্বাচনগুলোতে বগুড়ার সাতটি আসন বিএনপি’র দখলে ছিল। এবারও ৭টি আসনে বিএনপি’র প্রার্থীদের জয়ী করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়া-৬ সদর আসনে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করবেন। গত ২৯ জানুয়ারি তারেক রহমান বগুড়ায় আসায় ভোটের মাঠ পাল্টে গেছে।

এদিকে আজ সোমবার প্রায় দুই শতাধিক সাইকেল নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা বগুড়ায় তারেক রহমানের ধানের শীষের পক্ষে র‌্যালি করেন। এই র‌্যালিটি তারুণ্যের উৎসবে পরিণত হয়। এছাড়া

বিএনপি-জামায়াত তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গণমিছিল বের করে বগুড়ায়। নির্বাচনি প্রচারণা হিসেবে বগুড়ায় জামায়াতের মহিলা বিভাগ গত ৭ ফেব্রুয়ারি র‌্যালি বের করে। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সে সময় তারা বলেন, বগুড়ার নারী ভোটাররা তাদের পক্ষে আছেন। অপরদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধানের শীষের পক্ষে কৃষকদলের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রনি, মহিলাদল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমা আকতার এবং বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র পরিমল চন্দ্র দাসের স্ত্রী পুনম রানী দাসের নেতৃত্বে মহিলাদের পৃথক দু’টি বিশাল মিছিল শহরবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

বগুড়া-৬ সদর আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন বগুড়া শহর জামায়তের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর দিলরুবা। তবে এ আসনে মুল লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে।

এছাড়া বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা), বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ), বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া), বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম). বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপি-জামায়াত শেষ মুহুর্তে নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

বগুড়ার ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে প্রতিযোগিতা বেশ জমে উঠেছে।

বিএনপি এবং জামায়াত দু’টি দলই সমানতালে ভোটের মাঠে রয়েছে। বগুড়া জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন জানান, বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়ায় আসার পর ভোটের মাঠ বদলে গেছে। বগুড়ার প্রতিটি আসনে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইনশাল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে।

তবে বগুড়াকে ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের উর্বর ভূমি দাবি করে বগুড়া-৬ সদর আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল জানান, এবারের নির্বাচনে তাঁরা আশাবাদী এবং নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। সাতটি আসনেই জয়লাভ করতে চান তারা।