শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জ, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন বলেছেন, বিচারহীনতা আর পেশিশক্তির দাপটে মানুষের জীবনে ভোগান্তির শেষ নেই। এসব রূখে দিয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।
এছাড়া নির্বাচন নিয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা নুসরাত সুপ্তি।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
এবিএম সিরাজুল মামুন : আমাদের এই আসনের জন্য সদূর প্রসারি কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আদর্শিক চিন্তা-ভাবনা থেকে আমাদের মূল্য টার্গেট দুইটা। একটা হলো ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা। আরেকটা হলো, মানুষের সেবা। আমাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো, শহরে মাঝে হকারদের কারণে মানুষের ভোগান্তি হ্রাস করা। এই হকারদের সড়ক থেকে সড়িয়ে সম্মানজনক একটি স্থানে পুর্নবাসন করবো। যেন মানুষ স¦াচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে। শহরটাকে যেন যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন করে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত করতে পারি সেই চেষ্টা করবো। আর সুষ্ঠু ভোটে জয়যুক্ত না হলেও যিনি জয়যুক্ত হবেন তাকে স্বাগত জানিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবনমানের উন্নয়নের স্বার্থে তার সঙ্গে মিলে কাজ করবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
এবিএম সিরাজুল মামুন : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আমি খুবই সিরিয়াস।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
এবিএম সিরাজুল মামুন : জুলাই সনদের বিষয়ে গণভোটের প্রসঙ্গে আমাদের জোটের অবস্থান স্পষ্ট। সংস্কারের পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কাজ করছি।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
এবিএম সিরাজুল মামুন : এই দেশে স্বাধীনতার পরে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে এই নির্বাচনটা ভিন্ন। কারণ অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই নির্বাচন হচ্ছে। কাজেই জনগণের প্রত্যাশা যদি পূরণ না হয়, পেশিশক্তি এখানে এসে কেন্দ্র দখলের রাজনীতি করতে চায়, তাহলে জনগণই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এইবার প্রতিহত করবে।
নতুন সীমানা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন- বন্দর, কলাগাছিয়া, মুছাপুর, ধামগড় এবং মদনপুর নিয়ে গঠিত। খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪০ হাজার ৮২০ জন এবং নারী ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৫। আসনটিতে হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন। ভোটাররা ১৭৫টি কেন্দ্রে তাদের ভোট প্রদান করবেন।
আসনটিতে প্রার্থীর সংখ্যা মোট ১০ জন। খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছেন, বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, গণসংহতি আন্দোলনের তরিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাছুম বিল্লাহ, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লা ও সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নাহিদ হোসেন।
এছাড়াও রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন, যিনি জাতীয় পার্টির জেলার সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।