শিরোনাম

সুনামগঞ্জ, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসন সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে একটি অন্যতম আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ ভবিষ্যত গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা বলেন।
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন সুনামগঞ্জের ছাতকের বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। কলিম উদ্দিন ছাত্রজীবন থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের রাজনীতিতে তার হাতে খড়ি। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কলিম উদ্দিন ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে নির্বাচন করেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা মুহাম্মদ আমিনুল হক।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন: এই নির্বাচন পরির্বতনের নির্বাচন। এটি ছাতক-দোয়ারাবাজারের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সংগ্রামের ফল। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করবো। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলে বদলে দিবো ছাতক-দোয়ারাবাজারের ভবিষ্যৎ। এলাকায় পরিকল্পিতভাবে একটি আধুনিক মডেল টাউনে রূপান্তরিত করব। উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, যুব কর্মসংস্থান ও মানবিক সেবার নতুন দিগন্ত তৈরি করা হবে।
বাসস: নির্বাচনের আচরণবিধি মানার ব্যাপারে আপনার নির্দেশনা কী?
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন: নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাসস: গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন: দলীয় সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।
বাসস: আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন: একাত্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্বে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। আর চব্বিশ সালে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এই নতুন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসন সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে একটি অন্যতম আসন। শিল্পাঞ্চল খ্যাত এই আসনটি সবার নজর কাড়ে। এখানে রয়েছে বালু-পাথর মহাল সহ সিমেন্ট কারখানা ও পেপার মিল। যেখানে মানুষের কর্মসংস্থানের যোগান দেয় এই আসন হলো সুনামগঞ্জ-৫ আসন। ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে এই আসন। দুই উপজেলায় রয়েছে পর্যটন স্পট কে হচ্ছেন এই আসনের কান্ডারী। এই আসন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্ধু।
এ আসনে নির্বাচন করছেন বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম আল মাদানী। জাতীয় পার্টি প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আজিজুল হক।
দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের সময়েও কলিম উদ্দিন মিলন রাজপথ ছাড়েননি। দলের আন্দোলন, মামলা ও হামলার মধ্যেও ছিলেন কর্মীদের পাশে। এ সময় তিনি জেলার বিভিন্ন থানায় ৯টি রাজনৈতিক মামলার আসামি হন। ২০০৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় এক লাখ ভোট পান তিনি। ২০১৮ সালে মনোনয়ন না পেলেও রাজপথে দলের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন এবং বিএনপির কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ছাতকের রাজপথে সংঘর্ষের সময় তিনি কর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বিরোধিতায় দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের সময়ও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তিনি আসামি হন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক-দোয়ারাবাজারে) মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার, ৪শত ৫৮ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ, ৭০ হাজার, ৬শত ২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার, ৮শত ৩৬ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।