বাসস
  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৩
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৪

চুয়াডাঙ্গাকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করবো : ২ আসনের জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিন

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রুহুল আমিন। ফাইল ছবি

চুয়াডাঙ্গা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রুহুল আমিন চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত চুয়াডাঙ্গা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান। 

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা দুর্নীতিকে এবং চাঁদাবাজিকে রুখে দিতে পারি, সমাজের ক্ষতিকর মানুষগুলোকে রুখে দিতে পারি, তাহলে এই জাতি শান্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। সেজন্য আমাদের যে কাজটুকু করা প্রয়োজন সেগুলো আমরা সবই করবো।’ 

জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন একজন আয়কর আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। জেলার জীবননগর উপজেলার ধোপাখালি মন্ডল পাড়ায় তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা। তার পিতার নাম আব্দুল খালেক এবং মাতার নাম বুলবুলি খাতুন। তিনি ১৯৮০ সালের ৪ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। স্ত্রী স্বপ্না খাতুন পেশায় শিক্ষক। তিনি ১ পুত্র ও  ১ কন্যার জনক। ১৯৯১ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে রাজনীতীতে হাতে খড়ি রুহুল আমিনের। তিনি ২০০৩ সালে ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৯ সালে জেলা জামায়াতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২২ সাল থেকে  জেলা জামায়াতের আমীর নিযুক্ত হন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা বিপুল আশরাফ। 

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের নিয়ে আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কি?

রুহুল আমীন: আমরা দুর্নীতি দুঃশাসনকে রোধ করে এগিয়ে যেতে চাই। এই ৫৪ বছরে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারেনি শুধু এই দুর্নীতি দুঃশাসনের কারণে। আমরা এই দুর্নীতি দুঃশাসনকে জাদুঘরে রেখে এগিয়ে যেতে চাই। এলাকার মানুষ সরকারের কাছে যে অনেক বেশি কিছু চায় তা না। সে যে রাস্তা দিয়ে চলবে সেই রাস্তাটা ভালো চায়। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়বে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটাকে ভালো চায়। সে যেখানে চিকিৎসা নিতে চায় সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো চায়। আমরা সর্বপ্রথম জনগণের এই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করার লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। 

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি? 

রুহুল আমিন: আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল সেটা আমরা আগেও প্রমাণ দিয়েছি, এখনো প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনে নমিনেশন পেপার উত্তোলন, নমিনেশন পেপার জমা দেওয়া, নমিনেশন পেপার বাছাই থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়ে আমরা অক্ষর অক্ষরে আচরণবিধি মানি। আমাদের কর্মীদের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আদেশ দিয়েছি। 

আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আইন যদি কেউ ভেঙে ফেলে সেটা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। তবে হ্যাঁ, প্রশাসন যদি এই বিষয়গুলো না দেখে, তাহলে আমাদের কর্মীরা আহত হয় এবং আমরাও কষ্ট পাই। আমি অনুরোধ করব আমার বা অন্যদের কর্মীরা যদি কোন আইন ভাঙে বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাকে সতর্ক করতে হবে। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। 

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি?

রুহুল আমিন: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা যে আন্দোলন করেছি, সে আন্দোলন জাতি দেখেছে। জুলাই সনদের বিষয়ে আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট চেয়েছিলাম। শুধু বিএনপির কারণে জুলাই সনদের ভোটটা আগে করা হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। কিন্তু সরকারের অনিচ্ছা বা অন্যদের চাপে যে কারণে কাজটি সম্পন্ন হয়নি। এখন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে হবে। যদিও এটা সাধারণ মানুষের জন্য একটু বিড়ম্বনা তবুও যে এটা হচ্ছে এটাই সৌভাগ্য। আমরা জাতীয় নির্বাচনকে যেরকম গুরুত্ব দিয়েছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে চাই। 

আমরা বিশ্বাস করি, ‘যদি হ্যাঁ জিতে যায়, তাহলে জুলাই জিতে যাবে। যদি হ্যাঁ হেরে যায় তাহলে জুলাই হেরে যাবে। আমরা এই জাতির কাছ থেকে জুলাইকে হেরে যেতে দিতে চাই না। এজন্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ রেখে জাতিকে জুলাইয়ের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই । আমাদের কর্মীদেরও সেভাবেই ভোট চাইতে বলছি। 

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?

রুহুল আমিন: নির্বাচনে সব দল বিজয়ী হতে চায়, তেমন আমরাও বিজয়ী হতে চাই। কিন্তু সেটি ভোট চুরি করে না, ভোট ক্রয় করে না, দিনের ভোট রাতে নিয়ে না, সুষ্ঠু নির্বাচন করে বিজয়ী হতে চাই। আমরা ভোটারদের একটি স্বাধীন ভোট নিতে চাই এবং এর ভিত্তিতে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবে। শুধু প্রার্থী এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রার্থীর দলীয় কর্মী, প্রার্থীর দলের লোকজন ও প্রার্থীর দলের কার্যক্রম। এখানে কখনো কখনো প্রার্থীরা দলের বাইরে যেতে পারে না, সুতরাং দলের কর্মীরা যদি খারাপ হয় তবুও তাদের নিয়ে চলতে হয়। এই বিষয়গুলো ভোটাররা খুব ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিজয়ের জন্য যেমন আমরা প্রত্যাশা করি, সাথে সাথে ভোটারদের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড আমরা প্রত্যাশা করি। প্রশাসনের নিরাপত্তা আমরা প্রত্যাশা করি। 

চুয়াডাঙ্গা- ২ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)। 

৩টি উপজেলা, ২০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন গঠিত। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৪টি। ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন ও হিজড়া রয়েছে ৪ জন।