শিরোনাম

নাটোর, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-২ আসন। সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী বাসযোগ্য নাটোর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী দলের জেলা কমিটির নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় কমিটির মজলিশে সুরা’র সদস্য। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন। নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নাটোর জেলা প্রতিনিধি ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
ইউনুস আলী: জনগণের পাশে যেয়ে তাদের মানসিক অবস্থা আমরা বুঝেছি। তারা শান্তিতে-নিরাপদে থাকতে চান, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতি-লুটপাট পছন্দ করেন না। আমরা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত শান্তি ও নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলতে চাই। তাদের সঙ্গে নিয়ে বাসযোগ্য নাটোর গড়তে চাই। পর্যটন জনপদ হিসেবে নাটোরকে গড়ে তুলতে আমাদের নজর থাকবে। আমরা যুব সমাজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ইউনুস আলী: আমাদের সংগঠনের শৃঙ্খলা আছে। নেতা-কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে, তারা হাই কমান্ডের নির্দেশ অনুসরণ করে। নির্দেশ অনুসরণ করেই তফসিল ঘোষণার পরে দলের নির্বাচনী ব্যানার ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। আগামীতেও নির্বাচন কমিশনের আইন মেনেই আমাদের প্রচারণা কার্যক্রম চলবে। এ ব্যাপারে আমরা আমাদের সুনাম ধরে রাখতে চাই, নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
ইউনুস আলী: জুলাই বিপ্লবে আত্মদানকারী শহীদের হত্যার বিচার চাই আমরা, তাদের যথাযথ মর্যাদা চাই। জুলাই সনদ বাংলাদেশের অস্তিত্ব বলে আমি মনে করি। তাই দেশের জন্য জুলাই সনদের পক্ষে অর্থাৎ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আমাদের জোড়ালো অবস্থান রয়েছে।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
ইউনুস আলী : ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে মাত্র দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যাই। ঐ সময় থেকে জনগণের কাছে আছি। জনগণের মনোভাব বুঝে তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ করছি। তাই তারা গোপনে এবং প্রকাশ্যে সাড়া দিচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
আসনটি দুইটি পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। দুইটি উপজেলায় ১৫৬টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ, ৬ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১ হাজার ৬৫৪ জন পুরুষ, ২ লাখ ৫ হাজার ২২৩ জন নারী এবং ৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের।
এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য পাঁচ প্রার্থী হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রকিব উদ্দিন কমল (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মো. নুরন্নবী মৃধা (ফুটবল) ও গণসংহতি আন্দোলনের তাহামিদা ইসলাম তানিয়া (মাথাল)।