শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং কৃষি বান্ধব রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা কৃষকদের নিয়ে ভাবেনি। যদি ভাবতো তাহলে এই কৃষি প্রধান দেশে বীজের সংকট হতো না। কিন্তু আমরা এ সমস্যার সমাধান করব। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে একটি কৃষিবান্ধব জেলায় পরিণত করব।’
হাসানুজ্জামান সজীব দামুড়হুদা উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক ও মোসাম্মৎ হাসনা হেনা দম্পতির পুত্র। তিনি ১৯৭৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যক্তি জীবনে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করে ২০০৩ সালে ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নিযুক্ত হন। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পান। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি দলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। হাসানুজ্জামান সজীব গোকুলখালী ডা. আফসার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী পদে কর্মরত। এছাড়াও তিনি ভূষিমাল ও বেকারির ব্যবসার সাথে জড়িত।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা বিপুল আশরাফ।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের নিয়ে আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
হাসানুজ্জামান সজীব : আমি নির্বাচিত হতে পারলে সর্বপ্রথম লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ করব। দুর্নীতি বন্ধ করলেই
অটোমেটিক্যালি সরকার থেকে অর্থনীতির একটা অংশ বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবার পাবে। এতে জনগণের অর্থনৈতিক বৈষম্য অনেকাংশে দূর হবে।
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু এই দেশের কৃষকরা কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। তাই আমি নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষকদের যেসব অসুবিধা আছে সেগুলো দূর করবো। বিশেষ করে বীজ, সার ও কীটনাশক সহজলভ্য করার চেষ্টা করবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
হাসানুজ্জামান সজীব : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। আমরা আদর্শের সাথে
কখনো আপোষ করি না। এজন্য আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি সরকারি যে বিধিমালা আছে, নির্বাচন কমিশনারের যে বিধিমালা আছে, সে বিধিমালা যেন মেনে চলা হয়।
অন্যান্য দলের মত ইসলামী আন্দোলন এক নয়। ইসলামী আন্দোলন এই চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৯৮৭ সাল থেকে রাজনীতি করছে। আমাদের দ্বারা এই চুয়াডাঙ্গাতে আজ পর্যন্ত কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি। আমাদের নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলা মেনে চলে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
হাসানুজ্জামান সজীব: বাংলাদেশের বুকে ৫ই আগস্ট একটি ঐতিহাসিক দিন । যেমনভাবে ১৯৭১ সালের
স্বাধীনতা যুদ্ধ একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমরা একটি লাল সবুজ পতাকা পেয়েছি। কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপক একটি ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের কোনো দল ব্যানার নিয়ে মাঠে ছিল না। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছিল। আমরা চুয়াডাঙ্গাতেও মিছিল করেছি।
আমাদের প্রত্যাশা ছিল এতদিন ধরে যে-রকম ভাবে নির্বাচন হয়েছে সেটাই পরিবর্তন করা। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্বাচন করা। আমরা চাই পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন হোক। আমরা যদি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই তাহলে পিআর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নাই।
জুলাই সনদের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি, এই জুলাই সনদের জন্যই গণভোট। আমরা সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
হাসানুজ্জামান সজীব : বাংলাদেশের মানুষ বিগত তিনটা নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এজন্য আমরা চাই
বাংলাদেশের বুকে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। হাজার হাজার মানুষের রক্ত ঝরিয়ে আমরা জুলাই পেয়েছি। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, জুলাইয়ের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার। এর মধ্যে দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ যেন আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি।
বাসস : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি ৩টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে জীবননগর উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা সদরের ৪ টি ইউনিয়ন এবং দর্শনা পৌরসভা ও জীবননগর পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এখানে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন ও হিজড়া রয়েছে ৪ জন।