শিরোনাম

চুয়াডাঙ্গা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু জেলার জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মাহমুদ হাসান খান বাবু জেলা বিএনপির সভাপতি। রাজনীতির বাইরে তিনি একজন শিল্পপতি। সম্প্রতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়ার বাসিন্দা সোলেমান খান ও মাহমুদা খানম দম্পতির পুত্র মাহমুদ হাসান খান। তিনি ব্যক্তি জীবনে তিন সন্তানের জনক। তার জন্ম ১৯৬৬ সালের ৩১ অক্টোবর। ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। সেখান থেকেই রাজনীতির হাতে খড়ি। ২০০৩ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন মাহমুদ হাসান খান বাবু। পরবর্তীতে যুবদলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক পদ লাভ করেন। ২০০৭ সালে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি'র সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসাবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা বিপুল আশরাফ।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের নিয়ে আপনার নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া কী?
মাহমুদ হাসান: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনকে আমরা দুইটি ভাগে ভাগ করেছি। একটি হচ্ছে আমাদের জাতীয় প্রতিশ্রুতি। যেটি আমাদের দল থেকে নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সাথে বলা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি পারিবারিক কার্ড, সেই পারিবারিক কার্ডের অধীনে একটি পরিবার যাদের প্রাপ্য তারাই আর্থিক সুবিধা পাবে অথবা ন্যায্য মূল্যে খাদ্যসামগ্রী পাবে।
অপরটি আমাদের কৃষি কার্ড। যারা কৃষি কাজে নিয়োজিত আছেন তারা সহজেই কৃষি উপকরণ পাবেন। কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হবে না, এটিই আমাদের জাতীয় প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয়ভাবে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চাই। উপজেলা পর্যায়ে যে হাসপাতালগুলো আছে সেগুলোর আরো উন্নয়ন ঘটাতে চাই। আমরা একটি মোবাইল হাসপাতাল করতে চাই। যেহেতু চাইলেই আমরা সবগুলো ইউনিয়নকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছাকাছি আনতে পারবো না, এজন্য মোবাইল হাসপাতাল প্রত্যেক ইউনিয়নে থাকবে। একটা ইউনিয়ন থেকে আরেকটা ইউনিয়নে যাতায়াত করবে। যাতায়াত করে মৌলিক চিকিৎসাসেবা দেবে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসন কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাই। এতে স্থানীয় কৃষি কাজে নিয়োজিতদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা বিকাশ লাভ করবে। এর বাইরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উন্নয়ন ও দুর্নীতি দূর করতে চাই।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মাহমুদ হাসান: নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর একটি সুন্দর নির্বাচন দেশের মানুষ এবং জাতি পেতে যাচ্ছে। সে ব্যাপারে আমরা খুব সচেতন। আমাদের নেতাকর্মীরাও সচেতন।
এটা শুধু আমাদের নেতাকর্মীদের ওপরেই নির্ভর করবে না। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং আমাদের যারা প্রতিপক্ষ সবাইকেই পালন করতে হবে। সবার প্রতি আমার আবেদন একটি সুন্দর নির্বাচন আমরা চুয়াডাঙ্গা দুইটি আসনে উপহার দিতে চাই। এই নির্বাচন যেন কোনো কারণেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মাহমুদ হাসান: জুলাই সনদ নিয়ে যে গণভোট হবে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে। নেতাকর্মী সমর্থকদের বলবো, ‘হ্যাঁ’ সংস্কারের পক্ষে। এর অন্যতম প্রধান সংস্কার হচ্ছে প্রতি ৫ বছর পর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এর বাইরে আরো সংস্কার আছে যেমন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট। আমরা যদি মনে করি আর ফ্যাসিস্ট ফিরে আসবে না। তাদের আসার রাস্তা বন্ধ করতে হলে আমাদের এই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবো।
বাসস. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
মাহমুদ হাসান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা চাই জনগণ যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। আমরা আশা করি রেকর্ড সংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এর দুটো কারণ। একটি হচ্ছে দীর্ঘদিন মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি অথবা যাননি। এর বাইরে যারা তরুণ প্রজন্ম আছে, যারা নতুন ভোটার হলো, ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি, তারা এবার অধীর আগ্রহ আছে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। আমরা ধারণা করছি, এবার অনেক বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে। আমি আশা করছি যে, জাতি এবার একটা সুন্দর নির্বাচন দেখতে পারবে। এতে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।
বাসস: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মাহামদু হাসান :বাসসকেও ধন্যবাদ।
চুয়াডাঙ্গা- ২ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, জেলা জামায়াতের আমির ও ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)।
৩টি উপজেলা, ২০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন গঠিত। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৪টি। ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন ও হিজড়া রয়েছে ৪ জন।