বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৫

খুলনা-২, ৩ ও ৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল গতকাল বুধবার দিনব্যাপী নগরীরর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। ছবি: বাসস

খুলনা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা), খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) ও খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ শুরু করেছেন। এ সময় তারা স্ব-স্ব নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।

খুলনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, মহানগরী সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের জামাত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল গতকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী নগরীর ডাকবাংলো, বড় বাজার, খুলনা সদর হাসপাতাল রোড, মসলা পট্টি, কদমতলা, হুগলি বেকারি মোড়, নিক্সন মার্কেট, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। 

অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল গণসংযোগকালে বলেন, ‘দেশে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আপসহীনভাবে কাজ করতে চাই। খুলনা-২ আসনের উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহ ভীরু নেতৃত্ব প্রয়োজন জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে, তাহলে আমি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক। ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যের বিপক্ষে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই জামায়াতে ইসলামীর জন্ম। তবে এত দিন তাদের দলকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বাজারের দোকানে দোকানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের খোঁজখবর নেন এবং জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে খুলনা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা সদর থানার আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, খুলনা জেলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আমানত স্যার, ছাত্রশিবিরের মহানগরী সেক্রেটারি রাকিব হাসান, লবণচরা থানা সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান জিকো, ২১ নং ওয়ার্ডের আমীর  মওলানা আল মামুন, আবুল কাশেম, ইসরাফিল, মোস্তাফিজুর রহমান, তালহা, ব্যাংকার আরিফুল হক মোল্লা, ফজলে রাব্বি, তারেক, মহসিন, নবীন, রনি, জুবায়ের, হুমায়ন, এম কাদের, হিরু, টুটুল, সালাউদ্দীন, হাফেজ লুৎফর রহমান, শিপন, পারভেজ, মে. আবুল বাসার, রেদওয়ান, সাদ্দাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, মহানগরী আমীর ও খুলনা-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান গতকাল বুধবার দিনব্যাপী শিল্পাঞ্চল খালিশপুরের ৮নং ওয়ার্ডের ক্রিসেন্ট জুট মিলস স্টাফ, শ্রমিক ও কর্মচারীদের মাঝে গণসংযোগ করেন। 

খুলনা-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান গতকাল বুধবার দিনব্যাপী শিল্পাঞ্চল খালিশপুরে গণসংযোগ করেন। ছবি : বাসস

তিনি বলেন, বর্তমানে মালিক শ্রমিকের মাঝে কৃত্রিম সংকট ও সমস্যা সৃষ্টি করে একদল মানুষ ফায়দা লুটছে। ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা দিয়ে শ্রমিকরা অনেক সময় নিজেদের কর্মস্থল ধ্বংস করছে। তারা বুঝতে পারছে না কর্মস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা দাবি জানাবে কোথায়। অপরদিকে কিছু মালিক অধিক মুনাফা করতে গিয়ে শ্রমিকদের পেটে আঘাত করছে। ফলে শ্রমিকরা কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। এতে উভয়ের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা শ্রমিক-মালিকের মাঝে সব প্রকার দ্বন্দ্বের অবসান চাই। 

তিনি বলেন, শ্রমিক এবং কর্মজীবী মানুষ নানাভাবে নির্যাতিত এবং তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। মিল, ফ্যাক্টরি ও ইন্ডাস্ট্রিতে শ্রমিকদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হয় না। তাদের শ্রমের মর্যাদা দেওয়া হয় না। এখনো বহু কলকারখানার কর্মপরিবেশ ঠিক করা যায়নি। আমরা যদি টেকসই বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই-তাহলে সমাজের প্রত্যেকে পরস্পর সম্মান এবং ভালবাসা দিয়ে এ সমাজকে গড়ে তুলতে হবে। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফরাজী, খালিশপুর থানা আমীর মওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৮নং ওয়ার্ড আমীর আবু সাঈদ চৌধুরী আরিফ বিল্লাহ, আল কাওছার আমীন, এডভোকেট সাঈদুর রহমান, বেবি জামান, বিপ্লব হোসেন বাবু প্রমুখ।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক এবং খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মওলানা আবুল কালাম আজাদ উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। 

খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মওলানা আবুল কালাম আজাদ উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। ছবি : বাসস

মওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়রা পাইকগাছায় অতীতে উন্নয়নের বুলি তুলে শুধু শোষণ করা হয়েছে। অতীতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অতিথি পাখির মত এসে লুটপাট করেছে। সেই অবস্থায় এখন জনগণ নেই। সময় এসেছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। এলাকার উন্নয়ন বুঝে নেওয়ার। অঞ্চলভিত্তিক ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে যোগ্য প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার। দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করা হলে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার ও সুশাসন থেকে বঞ্চিত। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নেই। তিনি আগামী নির্বাচনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সবাইকে সচেতনভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতিককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন আমীর মো. আবু সাইদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভাটি সঞ্চালনা করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক থানা সভাপতি আবুল বাসার। জনসভায় অন্যান্যেল মধ্যে বক্তৃতা করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আবু জার আল গিফারী, কয়রা উপজেলা আমির মওলানা মিজানুর রহমান, নায়েবে আমীর মওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মওলানা শেখ সায়ফুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মওলানা সুজাউদ্দিন, ইউনিয়ন যুব বিভাগ সভাপতি হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম, মহেশ্বরীপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম এ সোবহান, ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালক জি এম জহুরুল হক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।