বাসস
  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪১

তিরিশ বছর পর সিলেট-৬ আসনে জয় পেল বিএনপি

ফাইল ছবি

\ শুয়াইবুল ইসলাম \

সিলেট, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ তিরিশ বছর পর সিলেট-৬ আসনে জয় পেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।  

জেলার গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসনে জয় পেয়েছিল বিএনপি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দলের মনোনয়ন নিয়ে আর কেউ এখানে এমপি হতে পারেননি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সেই আক্ষেপ ঘুচলো।

এ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট। ৮ হাজার ৩৪৮ ভোট বেশি পেয়ে এমরান আহমদ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে হারান।

এই জয়ে স্থানীয় বিএনপিতে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, এইবার প্রার্থী বাছাই, দলীয় ঐক্য, দলের চেয়ারম্যানের সুপরিকল্পিত ইশতেহার এবং ধানের শীষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ছিল জয়ের নেপথ্যের কারণ। এই বিজয় গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে বিএনপিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
এবারের নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দলের হেভিওয়েট অন্তত হাফ ডজন নেতা। শেষ পর্যন্ত এমরান আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। 

এর আগে সিলেট-৬ আসনে ছয় বার আওয়ামী লীগ, দুই বার জাতীয় পার্টি ও দুই বার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শরফ উদ্দিন খসরু বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এমরান আহমদ ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ নানা দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার একজন সদস্য।

বাসসের সাথে আলাপকালে এমরান আহমদ বলেন, প্রথমে মহান আল্লাহ-তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি, যিনি জীবিত থাকতে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমার নেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তার অনুপ্রেরণায় আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এতদূর এসেছে।

বিজয়ের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এখন দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাই। সবাইকে সাথে নিয়ে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের পিছিয়ে পড়া জনপদকে এগিয়ে নিতে চাই।

সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এমরান চৌধুরী বলেন, আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও কাজে আন্তর্জাতিক মান নেই। ট্রেনের লাইনের অবস্থাও খুব খারাপ। আশা করি, দলের প্রধান তারেক রহমান এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন। সিলেটের প্রতি তার আলাদা টান আছে। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে সিলেটের এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র একবার গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে জয় পেয়েছিল আমার দল। তাও সীমিত সময়ের জন্য। এবার বিএনপিকে ভালোবেসে, আমার নেতা তারেক রহমানকে ভালোবেসে মানুষ ভোট দিয়েছে। তাদের ভালোবাসার যথাযথ মূল্যায়ন করা আমার কর্তব্য।