বাসস
  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৫

কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেব: পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ

পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন। ছবি: বাসস

পটুয়াখালী, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, নদী ভাঙন রোধ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ এ অঞ্চলের জনগণের প্রত্যাশা পুরণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে জানান। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান।

পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। এছাড়া তিনি বিভিন্ন টেলিভিশনে নিয়মিত টকশোর পরিচিত মুখ। তার পেশা ব্যবসা এবং রাজনীতি।

তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন পটুয়াখালী জেলা ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা এনামুল হক এনা।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

মোশাররফ হোসেন: “আমার এলাকা একটি রিমোট এরিয়া। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও নদীভাঙনসহ নানা সংকট রয়েছে। বিশেষ করে কুয়াকাটা কেন্দ্রিক উন্নয়নের ঘাটতি স্পষ্ট। এখানে একটি বন্দর রয়েছে, যা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। নদীভাঙন ও কর্মসংস্থানের অভাব মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সংকট অ্যাড্রেস করে আমরা আগামী দিনে এগিয়ে যেতে চাই।”
পটুয়াখালী-৪ আসনের সার্বিক উন্নয়নে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম নিশ্চিত করা, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ উন্নয়ন এবং যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণই হবে আমার প্রথম কাজ। 

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আপনার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা কী?
মোশাররফ হোসেন:
“আমাদের এখানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমার দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণবিধি সঠিকভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”

বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?

মোশাররফ হোসেন: “জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে ব্যক্তিগত অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। জুলাইকে ধরে রাখতেই আমাদের হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে। সুতরাং আমরা বিএনপি মনে করি, আগামী নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দলের সব নেতাকর্মী হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকবে।”

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মোশাররফ হোসেন: “বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭বছরে ভোট দিতে পারেনি। তাই এবারের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতি হিসেবে আমরা নানা সংকটে দিনাতিপাত করছি। একটি স্থিতিশীল সরকার অথবা গণতন্ত্রের সরকার বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। আমি মনে করি সেটি দিতে পারে বিএনপি। তাই আগামীর সরকার গঠনে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।”

বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে তৎপর রয়েছেন। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর ও বিস্তীর্ণ নদী-চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনে উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পটুয়াখালী-৪ আসন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিকভাবে এ এলাকা নদী ও সমুদ্রঘেরা হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন ও যোগাযোগ সমস্যা দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ। 

নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৩০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। ভোটার সংখ্যার দিক থেকে এ আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত।

এবারের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিশের এমপি প্রার্থী ডা.জহির উদ্দীন আহমেদ এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. রবিউল হাসান নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। 

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৪ আসনে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন ও কর্মসংস্থান—এই চারটি বিষয়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা, প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে পাচ্ছেন এ আসনের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব।