বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৬

জেলা শহরটিকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : নীলফামারী-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী

মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ । ছবি : বাসস

নীলফামারী, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নীলফামারী-২ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ বলেছেন, ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনসহ উত্তরা ইপিজেডের পরিধি বৃদ্ধি ও চিলাহাটি স্থলবন্দর চালুর মাধ্যমে জেলায় গতিশীল অর্থনীতি সৃষ্টি চাই। 

মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। পেশায় তিনি আইনজীবী এবং বর্তমানে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুল লতীফ ছিলেন একজন সুনামধন্য আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। বাবার হাত ধরে মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ আইন পেশা এবং রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন।
সম্প্রতি নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা ভুবন রায় নিখিল।

বাসস: এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
আলফারুক আব্দুল লতীফ: জেলা শহরটিকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ শহরে প্রশস্ত কোনো রাস্তা নেই, বাইপাস নেই, অন্য কোনো জেলা শহরের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। নীলফামারী শহরটিকে পূর্ব এবং পশ্চিমে চারটি জেলার সঙ্গে কানেক্টেড করে ট্রানজিট পয়েন্ট-এ  রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

নীলফামারীতে একটি ইপিজেড রয়েছে (উত্তরা) অর্পূণাঙ্গ অবস্থায়। কন্টেইনার টার্মিনাল নেই, সরাসরি সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। রেল এবং সড়ক পথে সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সৃষ্টি জন্য কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, এ জেলার উৎপাদিত কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, ইপিজেড ছাড়াও অন্যান্য স্থানে ভারী শিল্প-কারখানা নির্মাণের মাধ্যমে ব্যাপক শিল্পায়নের ব্যবস্থা করতে চাই। পাশপাশি এ জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণ ও বেকার সমস্যা সমাধানে কারিগড়ি শিক্ষার প্রসারের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া জেলার চিলাহাটি স্থলবন্দরটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হলে বন্দরটি নীলফামারীর উন্নয়নে বিরাট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রভাবে জেলার চেহারা অনেকখানি বদলে যাবে।

এছাড়া জেলায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নীলসাগর, ভীমের চুলা, হরিশচন্দ্র পাট, ধর্মপালের গড়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে অর্থনৈতিক ফ্লো সৃষ্টি, জেলার মেডিক্যাল কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপদান ও বিভিন্ন হাসপাতালের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

আলফারুক আব্দুল লতীফ : আমার নির্বাচনী এলাকায় কর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার জন্য আমি নির্দেশনা দিয়েছি। আমার দলের কর্মীরা যথাযথ নির্দেশনা পালনে অভ্যস্ত।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

আলফারুক আব্দুল লতীফ : জুলাই সনদের বিষয়ে সরকার গণভোটের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমরাই অগ্রণী ভূমিকায় ছিলাম। আমরা মনে করি জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হবে চিরতরে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, বিদেশি প্রভুর অধীনস্ত হয়ে না থাকার একটি অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হবে, দুর্নীতি কমে যাবে। জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করার জন্য আমরা ক্যাম্পেইন করছি।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আলফারুক আব্দুল লতীফ : ফ্যাসিবাদী একটি সরকারকে বিদায় করার মাধ্যমে যে সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সরকার এবং জেলা পর্যায়ের প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার, আমরাও তাই বিশ্বাস করি।
জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-২ সংসদীয় আসন। এখানে রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা। রয়েছে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উত্তরা ইপিজেড, টেক্সটাইল মিল, মেডিক্যাল কলেজ।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা তিনলাখ ৮৫ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে নারী একলাখ ৯২ হাজার ৭৫৩, পুরুষ একলাখ ৯৩ হাজার ৩০, তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। গেল নির্বাচনের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ২৬ হাজার ৯৯৪ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ১৩৫ টি।

আসনটিতে ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ, বিএনপির প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, খেলাফত মজলিশের মো. সারোয়ারুল আলম, ইসলামী আন্দোলের মো. হাসিবুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মো. মিনহাজুল ইসলাম ও বিএনএফের  মো. সিরাজুল ইসলাম।