শিরোনাম

নীলফামারী, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নীলফামারী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাসিবুল ইসলাস বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন ও মানবিকতা নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট এডুকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তাঁর চাওয়া সাম্য মানবিক মর্যাদায় সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে সকল ধর্মাবলম্বীদের যথাযোগ্য অধিকার নিশ্চিৎ করা।
মো. হাসিবুল ইসলাম একজন আইনজীবী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) তিনি। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি। সম্প্রতি নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মো. হাসিবুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ
সংবাদ সংস্থার (বাসস) নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা ভুবন রায় নিখিল।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মো. হাসিবুল ইসলাম : সাম্য, মানবিক মর্যাদায় সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। সুন্দর এবং স্বভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে নীলফামারীকে উঁচু স্থানে উত্তীর্ণ করা। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ধর্ম পালনে সকল ধর্মাবলম্বীদের যথাযোগ্য অধিকার নিশ্চিৎ করা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং মানবিকতা নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট এডুকেশন চালু করা। গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালু করা। সন্ত্রাস, মাদক, ঘুষ, সুদ দুর্নীতি, জুয়া, টে-ারবাজী, চাঁদাবাজী ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যানজট ও জলাবদ্ধতা দুর করতে আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহন করা। ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে বৈষম্যহীন আধুনিক সমাজ বিনির্মাণ করা।
কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা, ভুতর্কী সার ও বীজ বিতরণে স্বচ্ছ নিশ্চিৎ করা। গুরুত্বপূর্ণ স্থান, মোড় এবং জলবহুল জায়গায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
এছাড়া নীলফামারীর মেডিক্যল কলেজ ও সদর হাসপাতাল আধুনিকায়ন, চিকিৎসা সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা। কিশোর, শিশুদের জন্য আধুনিক ক্রীড়াঙ্গন প্রতিষ্ঠা, খেলার মাঠ, সভা সমাবেশ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম নির্মাণ করা।
এছাড়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা। নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা আধুনিকায়ন করা। বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ফ্রি কম্পিউটারসহ ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থান ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াইফাই সুবিধাসহ ৫০০ আসন বিশিষ্ট এয়ার কন্ডিশন লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা।
বাসস ; নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মো. হাসিবুল ইসলাম : সকল স্তরের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি শতভাগ পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নির্দেনা মেনে নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে কাজ করছে।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মো. হাসিবুল ইসলাম : সংস্কার কমিশনে আমরা (দল) গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে দাবি তুলেছিলাম। নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। আমরা আশা করছি, দেশের মানুষ গণভোটে হ্যাঁ বলবে। আমাদের প্রচার পত্রেও বলে দিয়েছি গণভোটকে হ্যাঁ বলুন।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো. হাসিবুল ইসলাম : একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যাতে বজায় থাকে। যাতে আচরণবিধির কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে এবং কেউ ব্যত্যয় ঘটালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। সকল প্রার্থীর সহাবস্থান এবং পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক সেটাই প্রত্যাশা।
সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-২ আসন। এখানে রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা। রয়েছে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উত্তরা ইপিজেড, টেক্সটাইল মিল, মেডিক্যাল কলেজ।
আসনটির ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৫৩, পুরুষ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০, তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। গেল নির্বাচনের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ২৬ হাজার ৯৯৪ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ১৩৫ টি।
আসনটিতে ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীর অন্যরা হলেন, বিএনপির প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, জামায়াতে ইসলামীর আলফারুক আব্দুল লতীফ, খেলাফত মজলিশের মো. সারোয়ারুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজুল ইসলাম, বিএনএফের মো. সিরাজুল ইসলাম।