শিরোনাম

মোশতাক আহমদ
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দেশের মোট পণ্যের ৪০ শতাংশ রেলের মাধ্যমে পরিবহনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার রেলপথ সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) শেখ মইনউদ্দিন।
আজ মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হারে যেভাবে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে আগামীতে রেলপথের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তাই আগামীতে রেলপথের আধুনিকায়ন ও সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, নেয়া হয়েছে অনেকগুলো প্রকল্প।
শেখ মইনউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন উন্নত দেশে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পণ্য শুধু রেলপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশে এই হার মাত্র তিন থেকে চার শতাংশ।
তিনি বলেন, রেলপথের সিগন্যালগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। এজন্য বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, উন্নত দেশ থেকে ইতোমধ্যেই ৩০টারও বেশি লোকোমেটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের চেষ্টা থাকবে রেলের কোচগুলো যেন অন্তত আমরা নিজের দেশে এসেম্বলিং করতে পারি। তাতে এই সেক্টরের স্বনির্ভরতা বাড়বে।
শেখ মইনউদ্দিন বলেন, শুধু রেলপথ নয় আগামীতে রেলপথের পাশাপাশি নৌপথকেও কার্যকর এবং দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, রেলপথ এবং নৌপথে এই দু’টি সেক্টরকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পারলে আধুনিকায়ন করা গেলে দেশের মোট পণ্য পরিবহনের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পরিবহন করা সম্ভব হবে।
শেখ মইনউদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পোর্ট থেকে পণ্য খালাসে কয়েকটি ধাপ পার হয়ে ট্রাক এবং রেলওয়ের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। আগামীতে প্রতিটি পোর্ট থেকে সরাসরি রেলের বগিতে পণ্য ওঠা-নামার ব্যবস্থা করা হবে। রেল লাইনের মাধ্যমে বগিগুলো যেন সরাসরি বন্দরের কন্টিনের ডিপোতে প্রবেশ করতে পারে সেভাবেই রেললাইনগুলোকে সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে একসময় প্রধান মাধ্যম ছিল আমাদের রেল। কিন্তু স্বাধীনতার পর-পর আস্তে-আস্তে এই এমফেসিস চলে গেছে রোডের উপরে।
তো এখন যেহেতু আমরা একটা কম্প্রিহেন্সিভ মাল্টিমল একটা প্ল্যান তৈরি করছি। যেখানে যেখানে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের রোড নেটওয়ার্কগুলো হয়তোবা এখন আর সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের মাতারবাড়ি পোর্টটা যখন ওপেন হবে, তারপরে টার্মিনালটা যখন ওপেন হবে- তখন দেখা যাচ্ছে যে রোড নেটওয়ার্কগুলো আর এই পণ্য ক্যারি করার মতো আর ক্ষমতায় থাকবে না। এইজন্য আমাদের এখন ফোকাসটা শিফট হয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের দিকে ও নদীপথের দিকে।
তিনি বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটা লাইন, চট্টগ্রাম দোহাজারী লাইনটা এটা যেমন আমরা ডুয়েল ট্র্যাক করার জন্যে এবং চট্টগ্রামকে বাইপাস করার জন্যে প্রজেক্টটাও পাস হয়ে গেল কয়েকদিন আগে। তারপরে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট নিচ্ছি। যেমন- আমরা চেষ্টা করছি যে আখাউড়া সিলেটের ওই রেলপথটাকে ঠিক করার জন্য। এটা ডুয়েল গেজ করার জন্য।
তিনি বলেন, বড়-বড় ট্রাকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রোডের শুধু যানজটই বাড়ে না। রোডের প্রচণ্ড পরিমাণ ক্ষতিও হয়। এত লোডের কারণে অনেক বেশি মেইনটেনেন্সে প্রতিবছর শত-শত কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আগামীতে রেলপথকে আরো আধুনিকায়ন ও যুবক উপযোগী করা হচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তবমুখী উদ্যোগগুলো আগামী সরকারও অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।