বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩১

জলাবদ্ধতা নিরসন ও মাদক-সন্ত্রাস রোধে চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের অঙ্গীকার

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জলাবদ্ধতা নিরসন, মাদক-সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিং প্রতিরোধের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

আশির দশকের শুরুর দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন আবু সুফিয়ান। ১৯৮৫ সালে নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, ১৯৮৭ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ছিলেন ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রামের আহ্বায়ক। ১৯৯৬ সালে মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক, ২০০৯ সালে গঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০১৬ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ২০১৯ সালে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ও ২০১৯ সালের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তার বিজয় হাইজ্যাক হয় বলে দাবি করেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বর্তমানে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক (দাঁড়িপাল্লা) গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ (মাথাল), নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. নুরুল আবছার মজুমদার (কেটলি) বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মো. শফি উদ্দিন কবির (কাঁচি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন (আপেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুস শুক্কুর (হাতপাখা), জনতার দল মো. হায়দার আলী চৌধুরী (কলম), জাতীয় সামজতান্ত্রিক দল জেএসডি’র প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরী (তারা)।

সংসদীয় এই আসনে মোট ভোটার- ৪১৬৩৬৩, তৎমধ্যে পুরুষ ভোটার- ২১৩৯০৬, মহিলা ভোটার- ২০২৪৪৮, হিজড়া ভোটার- ৯ জন। ভোট গ্রহণের জন্য মোট কেন্দ্র ১২১টি। এই আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৩ হাজার ৮৩৬ জন।

বাসস: চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি কেন আপনাকে প্রার্থী করেছে এবং ভোটারদের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা কতটা গভীর?

আবু সুফিয়ান : আত্মীয়তা ও সামাজিক সম্পর্কসহ সবকিছু মিলিয়ে আশির দশক থেকে বর্তমান চট্টগ্রাম-৯ আসনের কোতোয়ালি ও বাকলিয়ার রাজনীতিতে আমার বিচরণ। আমার বেড়ে ওঠা, আন্দোলন সংগ্রাম সবকিছুই এখান থেকে। এখানকার ভোটার ও সাধার জনগণের সাথে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনীতি দিয়ে মাপা যাবে না। সামাজিক সম্পর্ক অনেক গভীর। ৮০’র দশক থেকে এখানকার ধুলো মাটির সাথে মানুষের হৃদয়ে আমার বসবাস। ১/১১ এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমার ৬ নম্বর ওয়ার্ডটি কেটে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাথে যুক্ত করার কারণে আমাকে দল চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন দেন। সে সময় আমার নিশ্চিত বিজয় হাইজ্যাক করা হয়। এবার দল আমাকে চট্টগ্রাম-৯ আসনে প্রার্থী করেছে। এখানেও আমি জনগণ এবং নেতাকর্মীদের ভালোবাসা এবং সমর্থন পাচ্ছি। এটা হচ্ছে দীর্ঘদিনের রাজনীতির ফসল, এটা সকল রাজনৈতিক কর্মীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় না, কিন্তু আমি ভাগ্যবান, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

বাসস : চট্টগ্রাম-৯ আসনের সমস্যাগুলো কি আপনি জানেন?

আবু সুফিয়ান : জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্ন শহর, স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানের অভাব, যানজট, হকার, ফুটপাত দখল, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংসহ নানা সমস্যা রয়েছে। বাকলিয়া-কোতোয়ালীতে জলাবদ্ধতা একটা বিশাল সমস্যা, সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায়। চাক্তাই খালের খনন হলেও মানুষ এখনো ময়লা ফেলে খালে। মানুষের এই অভ্যাসগত পরিবর্তন জরুরি।

বাসস : আপনি নির্বাচিত হলে প্রথম এলাকার কোন সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন? পাঁচ বছরে এলাকার উন্নয়নে আপনি কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?

আবু সুফিয়ান : একজন সংসদ সদস্যের কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন। তারপরও নির্বাচনী এলাকার মানুষের কিছু আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও আশ্বাস থাকে। তারা মনে করে প্রাত্যহিক সমস্যার সমাধানে নির্বাচিত প্রতিনিধি আমাদের পাশে থাকবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সব প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করব। ঘনবসতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থানের অভাব রয়েছে। অনেক জায়গায় স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার নেই। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে গেলে সুচিকিৎসা পাচ্ছে না। প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে গলাকাটা বিলের যে চাপে মানুষের ত্রাহি অবস্থা। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা যাতে নিশ্চিত করা যায় সেজন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

এছাড়াও মাদক ইভটিজিং কিশোর গ্যাং, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নীরব চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনাও আছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। মানুষকে একটি স্বাভাবিক সুন্দর সুস্থ জীবন যাপনের ধারা উপহার দেয়া সম্ভব। বিশেষ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং মাদককে এই এলাকা থেকে নির্মূল করব। প্রশাসন যাতে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে সে বিষয়ে কাজ করব। তবে এক্ষেত্রে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সৎ এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাকলিয়ায় যানজট একটা বিশাল সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকগুলো ফুটপাত হকারের দখলে। যানজটের কারণে আমাদের বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা, জ্বালানি, মানুষের কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট নিরসন করতে হবে। হকারদের উচ্ছেদ নয়, তাদের পুনর্বাসন করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

বাসস : প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? তাদের দুর্বল নাকি সবল ভাবেন? ভোটের মাঠে কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

আবু সুফিয়ান : এখানে বহু মত থাকবে, বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মানুষের পছন্দ করার অধিকার থাকবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। নির্বাচনে অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন, আমি কাউকে ছোট করে দেখতে চাই না। এটা চূড়ান্ত বিচারের দায়িত্ব জনগণের, এটা আমার হাতে না। আমি আমার আবেদন নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাব, অন্য প্রার্থীরাও যাবে। যাকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে তিনিই নির্বাচিত হবেন। আমি কাউকে খাটো করে দেখতে চাই না, প্রত্যেক প্রতিদ্বন্ধীকেই আমি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি।

বাসস : জনগণের উপকার করার জন্য বা দেশের জন্য কাজ করার অনেক উপায় আছে, তাহলে আপনি কেন নির্বাচনকেই বেছে নিলেন?

আবু সুফিয়ান : আমি কোন উত্তরাধিকারসূত্রে নির্বাচনে আসি নাই। আমার নির্বাচনটা হচ্ছে রাজনীতির কারণে। মানুষের কল্যাণে ও দেশের কল্যাণে যেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম সেই রাজনীতির কারণেই আমার দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কাছে যাবার ও দেশের জন্য কাজ করার সর্বোত্তম উপায়। সেটাই বেছে নিয়েছি।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?

আবু সুফিয়ান : একটা সময় নির্বাচন মানে উৎসব, মানুষের কাছে ছিল একটা আনন্দ। সপরিবারের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিত। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এই নির্বাচনটাকে আতঙ্কে পরিণত করেছিল। নির্বাচনে গুলি বোমা, মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাঁধা, দিনের ভোট রাতে নিয়ে ফেলাসহ একটা বাজে পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আমার আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে আবার সেই পুরোনো পরিবেশটা ফিরে আসুক। যারা নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নকারী সন্ত্রাসী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রশাসনের দায়িত্ব।

তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ১৫ বছর ধরে আমরা ছাত্র-জনতা সাধারণ জনগণ রক্ত দিয়েছি। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র জনতা আন্দোলন করেছে। প্রত্যাশাটাই ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই প্রত্যাশা পূরণে তারুণ্যের শক্তি এবার ধানের শীষে ভোট দিবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।