শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী ও বাকলিয়া থানা এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবেন এবং রেফারেল সিস্টেম চালু করে জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের নায়েবে আমীর ডা. এ কে এম ফজলুল হক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর থেকেই চট্টগ্রামে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা অবদান রাখেন। চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি, চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চট্টগ্রাম-৯ আসনের মানুষের ব্যাপক ভালোবাসা ও সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে বর্তমানে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক (দাঁড়িপাল্লা), গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ (মাথাল), নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. নুরুল আবছার মজুমদার (কেটলি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মো. শফি উদ্দিন কবির (কাঁচি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন (আপেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুস শুক্কুর (হাতপাখা), জনতার দল মো. হায়দার আলী চৌধুরী (কলম), জাতীয় সামজতান্ত্রিক দল জেএসডি’র প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরী (তারা)।
সংসদীয় এই আসনে মোট ভোটার- ৪১৬৩৬৩, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার-২১৩৯০৬, মহিলা ভোটার-২০২৪৪৮, হিজড়া ভোটার-৯ জন। ভোট গ্রহণের জন্য মোট কেন্দ্র ১২১ টি। এই আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৩ হাজার ৮৩৬ জন।
বাসস : চট্টগ্রাম-৯ আসনের সমস্যাগুলো কি আপনি জানেন?
ডা. ফজলুল হক : ঘনবসতিপূর্ণ চট্টগ্রাম-৯ আসনের মূল সমস্যার মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা। দ্বিতীয়টা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। চকবাজার থেকে বাকলিয়া যাবার ধোনির পুল ব্রিজটাও হয়নি। ময়লায় খালটা বদ্ধ হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলে পানির নিচে ডুবে যায়। এখানে সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নেই। ওয়ার্ডভিত্তিক অন্তত একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার থাকা দরকার ছিল। প্রাইমারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপ্রতুল। যেখানে সেখানে মানুষ ময়লা ফেলে। ঠিকমতো বর্জ্য অপসারণ হয় না। যানজট তো আছেই।
বাসস : নির্বাচিত হলে আপনি প্রথম এলাকার কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন? পাঁচ বছরের জন্য কোনো পরিকল্পনা করেছেন কি?
ডা. ফজলুল হক : তৃণমূলের মানুষ, বস্তির মানুষগুলো ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। তারা তো সেখান থেকে গিয়ে সরকারি বড় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারে না। তৃণমূলের মানুষ, বস্তির মানুষগুলো ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। তারা অন্তত প্রাইমারি চিকিৎসাটা যাতে নিতে পারেন সেজন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুধু শহরের রোগী নয়, বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে রোগী আসেন। যার ফলে এই হাসপাতাল রোগীদের চাপ নিতে পারছে না। এখন যে কারো সামান্য জ্বর হলেও মেডিকেলে চলে আসেন। রোগীরা ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যে সমস্ত হেলথ সেন্টার আছে সেগুলোতে আস্থা রাখছেন না। উপজেলা পর্যায়ে রেফারেল সিস্টেমগুলো চালু হওয়া উচিত ছিল। আমি নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম-৯ আসনের কোতোয়ালী ও বাকলিয়া এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সেখান থেকে রেফারেল সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিব। তাহলেই মেডিকেলে চাপ কমবে এবং মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছুবে।
চিকিৎসা সেবায় রেফারেল সিস্টেমটা চালু করা খুবই দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য আমাদের যুগোপযোগী একটা স্বাস্থ্য নীতি দরকার। এখন তো সবাই এমবিবিএস পাস করে সরকারি ডাক্তার হয়ে যায়। প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার সংকট রয়েছে।
বাসস : প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? তাদের দুর্বল নাকি সবল ভাবেন? ভোটের মাঠে কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
ডা. ফজলুল হক : কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে দুর্বল মনে করি না। ব্যক্তিগতভাবে আমার দর্শন হচ্ছে চট্টগ্রাম শহরে ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেছি, এখনো করে যাচ্ছি। আমি সরকারি কোনো দায়িত্বে না থাকলেও চট্টগ্রাম শহরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সাথে আমি জড়িত। নগরের বিভিন্ন সমস্যা, মানুষের দুর্ভোগ দেখা ও বুঝার সুযোগ হয়েছে। উদ্যোক্তা হিসেবে আমার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপাসিটিসহ সব মিলিয়ে মানুষের কাছে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে আমি পরীক্ষিত। চট্টগ্রাম-৯ আসনের মানুষ আমাকে পেয়ে খুব খুশি। তারা বলেছেন নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটাররাই মোকাবিলা করবেন ব্যালটের মাধ্যমে।
বাসস : জনগণের উপকার করার জন্য বা দেশের জন্য কাজ করার অনেক উপায় আছে, তাহলে আপনি কেনো নির্বাচনকেই বেছে নিলেন?
ডা. ফজলুল হক : আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে কেউ ফরম কিনে নিজ থেকে প্রার্থী হবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে না। সংগঠনের ১৫ ক্যাটাগরি থেকে মতামত নিয়ে তারা প্রার্থী সিলেক্ট করেন। চট্টগ্রাম-৯ আসনেও আমার প্রার্থীতা একইভাবে হয়েছে। দল আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছেন বলেই আমি ভোটের মাঠে লড়ছি। ব্যক্তিগতভাবেও আমি আগে থেকেই মানুষের সেবার কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
ডা. ফজলুল হক : অবাধ স্বচ্ছ নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানই একমাত্র প্রত্যাশা। যেখানে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে। ভোটটা সঠিকভাবে গণনা হবে। মানুষ যাকে ভোট দিবে সে-ই যাতে জয়ী হয়। কোনো জোর জবরদস্তি বা জনমতকে উপেক্ষা করে আমরা নির্বাচিত হতে চাই না। মানুষ বেছে নিক কারা নির্বাচিত হলে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে, চাঁদাবাজি মুক্ত হবে, দখলদার মুক্ত হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে জনগণকে বাজেটের শতভাগ হিসাব দিবেন জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে কমিটি করব, সেখানে সরকারি প্রতিনিধি, দুদকের প্রতিনিধি, স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সম্পৃক্ত করে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জাতির সামনে নিশ্চিত করা হবে।