বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৩

বিরল ও বোচাগঞ্জ চাঁদাবাজ মুক্ত করতে চাই : দিনাজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কালু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ কালু। ছবি : বাসস

দিনাজপুর, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ কালু বলেছেন, এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো।

এছাড়া দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং নান্দনিক বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলা গড়ার বিষয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। সংসদ নির্বাচন নিয়ে আ ন ম বজলুর রশিদ কালু নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) দিনাজপুর জেলা সংবাদদাতা রোস্তম আলী মন্ডল।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

বজলুর রশিদ কালু : সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে, আমার নির্বাচনী আসনের দুটি উপজেলা বিরল ও বোচাগঞ্জ চাঁদাবাজ মুক্ত করতে চাই। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের উত্থান হয়েছে। যা এই দুটি উপজেলায় শান্তি প্রিয় জনগণের বসবাসে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থায় নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলতে চাই। সেই সঙ্গে এলাকায় বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাই।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

বজলুর রশিদ কালু বলেন : নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আমার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম চালানোর জন্য। তফসিল ঘোষণা পর আমার নির্বাচনী এলাকায় ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণ করেছি। কোনোভাবেই যাতে আচারণবিধি লঙ্ঘন না হয় সে বিষয়ে সজাগ রয়েছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

বজলুর রশিদ কালু : জুলাই আন্দোলন ছাত্র-জনতা এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের  আন্দোলনের ফসল। এই আন্দোলন কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আমি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে শতভাগ একমত পোষণ করছি। এ জন্য আমার প্রচারণার শুরু থেকেই নিজের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চেয়েছি। গণভোটের পক্ষে ভোটারদের কাছে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

বজলুর রশিদ কালু : দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। বিরল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের পাশে ছিলাম এবং এখনো আছি। কিন্তু আমি একজন যোগ্য প্রার্থী হওয়ার পরেও বিএনপির মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। দলকে অনুরোধ জানিয়েছি, আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে দেওয়া হোক। সরকার ও নির্বাচন কমিশনারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, আমি নির্বাচিত হতে পারবো বলে আশাবাদী।
দিনাজপুর-২ আসনটি বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। দুটি পৌরসভা এবং ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন। মোট ১১৬টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ, ৭১ হাজার ৪৭৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১১২ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৬৬ জন নারী।

আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ প্রার্থী হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী। তিনি জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনাম, জাতীয় পার্টির এডভোকেট মো. জুলফিকার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহাম্মাদ রেদওয়ানুল কারীম রাবিদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোকারম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোবায়ের সাঈদ।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন আনোয়ার চৌধুরী জীবন ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ কালু।