বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪০

বঞ্চনাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করতে চাই : লালমনিরহাট-৩ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী দীপক

দীপক কুমার রায়। ফাইল ছবি

লালমনিরহাট, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে আলোচনায় রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী দীপক কুমার রায়। তিনি গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন পরিস্থিতি পরিবর্তনে তিনি ভোটারদের কাছে টেকসই কর্মসংস্থান, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন।

একান্ত আলাপকালে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী দীপক কুমার রায় তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার, আচরণবিধি প্রতিপালন, গণভোটের তাৎপর্য এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস)- লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা বিপুল ইসলাম।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

দীপক কুমার রায় : আমরা সব সময় আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম দীর্ঘ ১৭টি বছর রাজপথে। প্রান্তিক জেলা হিসেবে যে ভয়াবহ অবস্থায় লালমনিরহাট জেলা বাসী থাকেন, সেই বঞ্চনাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে চাই। চিহ্নিত করে কাজ করতে চাই।

বাজেটে লালমনিরহাটবাসীর বৈষম্য চিহ্নিত করে আমরা বিশেষ বরাদ্দ দাবি করব এবং নির্বাচিত হলে তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব। এবং যদি জাতীয় পঞ্চবার্ষিক কোনো পরিকল্পনা আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে পাস করাতে পারি, তাহলে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষদের যে মফিজ বলা হয়, অর্থাৎ দরিদ্রতা, এটা আমরা প্রথমেই ঘোচানোর জন্য যত ধরনের স্টেপে যাওয়া দরকার, সেটা আমরা নিতে চাই। 

মফিস—এই গ্লানির আর একটা নাম হচ্ছে অভাব। এই গ্লানির আর একটা নাম হচ্ছে দুর্দশা। এই দুর্দশা কিন্তু টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। এই দুর্দশা আমাদের ইতিপূর্বের সকল সংসদ সদস্যদের জন্য লজ্জার। এর আগের সংসদ সদস্যরা এখানে তেমন কাজ করতে পারেন নাই। তেমন কাজ করতে পারলে লালমনিরহাটে প্রচুর কর্মসংস্থান হতো। এই লালমনিরহাটের তরুণরা হতাশায় নিমজ্জিত থেকে তারা মাদক বা ড্রাগ নিতেন না। ফলে আমরা তরুণদের জীবনাচরণসহ পুরো অবস্থায় একটা পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তনটা আমরা ঘটাবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

দীপক কুমার রায়: নির্বাচনের শুরু থেকেই আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের অঙ্গীকার করেছি এবং প্রচারপত্র বা ফেস্টুন লাগানোর ক্ষেত্রে তা দলের নেতা-কর্মীদের জন্য নির্দেশনা হিসেবে দেয়া হয়েছে।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

দীপক কুমার রায়: জুলাইয়ের আন্দোলনে গণসংহতি আন্দোলন সম্মুখসারিতে অংশগ্রহণ করেছিল, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনই ছিল মূল উদ্দেশ্য। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের দলসহ গণতন্ত্র মঞ্চের যে ৩১ দফা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির তা এখন জুলাই সনদের মধ্যে পাওয়া যাবে; এটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 
এছাড়া টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোর ভারসাম্য আনতে হবে।  বিচার ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা দূর করতে হবে। গণভোটের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রের সংস্কার। আমরা রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল বদল চাই। মানবিক গণতান্ত্রিক জনগণের বাংলাদেশ চাই। আর এ কারণে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে আমাদের অবস্থান। হ্যাঁ ভোট নিয়ে আমাদের দল ক্যাম্পেইন করছে। আমরা জনগণের উদ্দেশ্যে হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহ্বান জানাই। তবে এই ভোট সুষ্ঠু করতে হলে জনগণকে সুযোগ দিতে হবে তারা তাদের মতো করে 'হ্যা' বা 'না' ভোট দেবেন।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

দীপক কুমার রায়: একটা সহিংসতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের একটি নির্বাচন আমরা চাই।

লালমনিরহাট-৩ আসনটি সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৬৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮০৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৯৪টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৫৯৫টি।

প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা অ্যাডভোকেট আবু তাহের, বিএনপি প্রার্থী দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান।

এছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জেলা শাখার সেক্রেটারি মধুসূদন রায় এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির শ্রমিক আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম।