বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩২

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক থাকবো : লালমনিরহাট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী দুলু

আসাদুল হাবিব দুলু । ফাইল ছবি

লালমনিরহাট, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে তুমুল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু। 

দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূরীকরণ, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

এক সাক্ষাৎকারে আসাদুল হাবিব দুলু তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি প্রতিপালন, গণভোটের গুরুত্ব এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা বিপুল ইসলাম। 

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

আসাদুল হাবিব দুলু : আমাদের জেলা একটি সীমান্তবর্তী জেলা। এখানে জনআকাঙ্ক্ষা অনেক। দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে জেলার মানুষ। সামনে নির্বাচন ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশাগুলো নিয়েই আমি কাজ করছি। বিশেষ করে আমি যেহেতু তৃণমূলে কাজ করি সব সময়, মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করে থাকি। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অভাব-অভিযোগ এবং প্রত্যাশাগুলোকে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। যদি নির্বাচিত হই, তাহলে এই অঞ্চলের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক থাকবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

আসাদুল হাবিব দুলু: আমরা চাই না আমাদের কোনো কার্যক্রমে আচরণবিধি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠুক। এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক রয়েছি। আমরা নির্বাচনী আচরণবিধির বাইরে কোনো কার্যক্রম করবো না।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

আসাদুল হাবিব দুলু: জুলাই সনদ দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের দল থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা সেভাবেই কাজ করবো।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আসাদুল হাবিব দুলু : দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য। সেটাই এখন আমাদের প্রত্যাশা। এবারের নির্বাচন আনন্দমুখর ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠুক। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তাকেই আমি স্যালুট করবো। 
বিশেষ করে তরুণ সমাজ, যারা গত তিনটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি—তাদের মধ্যে আমি যথেষ্ট উৎসব-উদ্দীপনা লক্ষ্য করছি। আশা করি তরুণ ও প্রবীণের সমন্বয়ে এই আসনে তারা আমাকে বিজয়ী করবে এবং আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শতভাগ নিবেদিত থাকবো।
লালমনিরহাট-৩ আসনটি সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৬৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮০৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯৪টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫৯৫টি।

আসনটিতে সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ছাড়াও অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা অ্যাডভোকেট আবু তাহের, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান।

এছাড়া রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দীপক কুমার রায়, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) লালমনিরহাট জেলা শাখার সেক্রেটারি মধুসূদন রায় এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির শ্রমিক আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি মো.আমিনুল ইসলাম।