বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১২

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজ করতে চাই : বগুড়া-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান

অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান। ফাইল ছবি

বগুড়া, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

এ লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’ এর আইনি স্বীকৃতি ও সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান ১৯৯১ সালে এই আসনে জামায়াত থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এখনও তিনি একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনসেবার সুযোগ চেয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বগুড়া জেলা সংবাদদাতা কালাম আজাদ। 

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান : আমি ৯১ সালে সংসদ সদস্য ছিলাম, তখন অনেক কাজ করেছি। কাজগুলো মানুষের পছন্দ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশ্রুতি আছে, আমাদের ম্যানিফেস্টো আছে, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। জনগণকে বলেছি, যদি নির্বাচিত হতে পারি আপনারা আমাকে পরামর্শ দেবেন। এই থানায় কি কি করতে হবে জানাবেন। আমাদের এখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও বড় করা, সেখানে এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, খেলাধুলার ব্যবস্থা করা এবং বিশেষ করে দূর অঞ্চলে গ্রামীণ অবকাঠামো, স্কুল-কলেজে অনেক কাজ বাকি আছে, রাস্তাঘাট করা বাকি আছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমাদের এই এলাকা তো শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত  বলা হয়। তাই কৃষির উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান : আচরণবিধি আমরা হাতে পেয়েছি সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। আচরণবিধি অনুসরণ করে পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলেছি। আমরা আচরণবিধি মেনেই সব কাজ করছি। উঠান বৈঠকে আমরা কাজ করছি এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান : জুলাই সনদ এটা দ্বিতীয় একাত্তর স্বাধীনতা। এইটা যদি আমরা আইনের ভিত্তি না দিতে পারি তাহলে তো জুলাই সনদ আমাদের কাজে আসবে না। আমরা চাই এই দেশটা নিজের পায়ে দাঁড়াক, মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। এ দেশ সমৃদ্ধ হোক এবং যুবকদের তাদের চাকরিসহ তাদের মনের আশা যেন আমরা পূরণ করতে পারি। ৪ কোটি, সাড়ে ৪ কোটি যুবককে বেকার রেখে দেশটার উন্নয়ন হতে পারে না। সেজন্য জুলাই সনদ এই রেফারেন্ডামের পক্ষে আমরা কাজ করছি। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান : আসলে দীর্ঘদিন তো নির্বাচন কুক্ষিগত করা হয়েছিল, নির্বাচন নামে প্রহসন করা হয়েছিল। আর কেউ যেন জোর করে ভোট করতে না পারে সেজন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা কোনো অন্যায় করবো না। মানুষ তার নিজের ভোট নিজে দিতে পারে এ ধরনের একটা পরিবেশ চাই আমরা। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা চাই। 

শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন।

আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থী হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মীর শাহে আলম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দীন (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার (ট্রাক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি) ও রেজাউল করিম তালু (সিঁড়ি)।