বাসস
  ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৯

রুশ হামলার শঙ্কায় প্রদর্শন সামগ্রী সরিয়ে নিচ্ছে কিয়েভের হলোদোমোর জাদুঘর

ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : কিয়েভের হলোদোমোর জাদুঘরের একটি অন্ধকার প্রদর্শনী কক্ষে চারজন কর্মী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পোশাক, ধর্মীয় প্রতিকৃতি, বই এবং ধাতব কৃষি সরঞ্জামের ওপর থাকা কাচের সুরক্ষা বেষ্টনী খুলে নিচ্ছেন।

এসব নিদর্শন ১৯৩২-৩৩ সালে সোভিয়েত নেতা যোসেফ স্তালিনের শাসনামলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারানো লাখো মানুষের স্মৃতিচিহ্ন। ইউক্রেন এবং বিশ্বের অনেক দেশ ওই দুর্ভিক্ষকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। 

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় এই জাদুঘরও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের সংগ্রহশালা গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

জাদুঘরের উপ-মহাপরিচালক ওলগা মেলনিক এএফপি-কে বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।’

তিনি আরো জানান, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া অধিকাংশ নিদর্শন দুর্ভিক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্মারক। সোভিয়েত আমলে ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির প্রায় ২ হাজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং আড়াই হাজার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত জুনে রুশ ড্রোনের আঘাতে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী একাদশ শতকের পেচেরস্ক লাভরা মঠে আগুন লাগে। এতে এর কেন্দ্রীয় ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদে আগুন ধরে যায়।

এছাড়া হামলায় ইউক্রেনের প্রাচীনতম শিল্পসংগ্রহগুলোর একটি সংরক্ষণকারী খারকিভ আর্ট মিউজিয়াম, নিপ্রোর একটি বড় আর্ট গ্যালারি এবং কিয়েভের চলচ্চিত্র স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বছরের শুরুতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রেও দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ড্রোন হামলা চালানো হয়।