শিরোনাম

ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬(বাসস) : কাতারে আটকে থাকা তহবিলের একটি অংশ দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় ব্যয় করা হবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এ তথ্য জানান। দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বুধবার তিনি এ কথা বলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের জব্দ বা সীমিত ব্যবহারের আওতায় থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে অর্থ ছাড় ও তা ব্যবহারের প্রক্রিয়া কী হবে, কিংবা কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, গারিবাবাদি বলেছেন, ‘কাতারের কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে প্রাথমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ ব্যয়ের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জানানো প্রয়োজনের ভিত্তিতে পণ্য কেনা হবে এবং তা ইরানের জন্য সরবরাহ করা হবে বলে সম্মত হয়েছে।’
গারিবাবাদি যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন, তা ২০২৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের সীমিত ব্যবহারের হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করা ইরানের তেল বিক্রির আয়ের একটি অংশ।
গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, অবমুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তেহরান নেবে। দেশের জন্য সবচেয়ে উপকারী ও অনুকূল উপায়ে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য ইরান ওই অর্থ নিজের বিবেচনায় অবাধে ব্যবহার করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জুন মাসে বলেন, চুক্তির আওতায় তখনো ওই অর্থ অবমুক্ত হয়নি। তবে তা অবমুক্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের অনুমোদন থাকবে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ওই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, বিশেষ করে সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য কেনা হতে পারে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মঙ্গলবার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া হবে, যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে, যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো মুদ্রায় প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।