শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপকে ‘হেয় প্রতিপন্ন’ করার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কালাস। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় রাশিয়াকে ছাড় দিতে বাধ্য করতে হবে।
মিউনিখ থেকে এএফপি জানায়, জার্মানির মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের শেষ দিনে কালাস বলেন, ‘কেউ কেউ যা-ই বলুক না কেন, তথাকথিত ‘ওয়োক’ বা ‘অবক্ষয়িত’ ইউরোপ কোনো সভ্যতাগত বিলুপ্তির মুখে নেই।’
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, ওয়াশিংটন ও ইউরোপ ‘একসঙ্গে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে’। তবে তিনি সতর্ক করেন, নিজেদের ‘সভ্যতা’ রক্ষায় ইউরোপকে ব্যাপক অভিবাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
কালাস বলেন, ‘আমরা যে বার্তাটি শুনেছি তা হলো—আমেরিকা ও ইউরোপ পরস্পর সম্পর্কিত, অতীতেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সব বিষয়ে আমাদের মতের মিল নেই—এবং ভবিষ্যতেও এমনটি থাকবে।’
মিউনিখের এই সম্মেলনে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, আগ্রাসী রাশিয়ার মুখে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় নেতৃত্ব নিতে হবে।
কালাস বলেন, ‘ইউরোপের নিজস্ব কৌশলগত সক্ষমতা পুনরুদ্ধার জরুরি।’
তিনি বলেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা ‘ইউক্রেন থেকেই শুরু’ এবং যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
রাশিয়া সম্পর্কে কালাস বলেন, ‘বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখতে হবে। রাশিয়া কোনো পরাশক্তি নয়।’ তিনি দেশটিকে ‘ভঙ্গুর’ বলেও অভিহিত করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হুমকি হলো- আলোচনার টেবিলে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে যতটা অর্জন করেছে তার চেয়ে বেশি অর্জন করে ফেলতে পারে।’
ইইউর এই শীর্ষ কূটনীতিক রাশিয়ার সামরিক শক্তির আকার সীমিত করা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং যুদ্ধাপরাধের দায় নির্ধারণের আহ্বান জানান।
এদিকে ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী বেঞ্জামিন হাদ্দাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কী বলছে তার ওপর কম গুরুত্ব দিয়ে ইউরোপের উচিত নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া।
রুবিওর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্ত থেকে সবচেয়ে খারাপ শিক্ষা হবে যদি আমরা কেবল তার বক্তব্যের কিছু ইতিবাচক শব্দ আঁকড়ে ধরে আবার উদাসীন হয়ে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রণে যা আছে, পুনরায় অস্ত্রসজ্জা, ইউক্রেনকে সমর্থন এবং আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি রাশিয়ার যে হুমকি রয়েছে, তা মোকাবিলা করাই হলো আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু।’