শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতার মধ্যে মস্কো শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রকে তার তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণ আক্রমণকে কেন্দ্র করে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা পশ্চিমা জোটের সমালোচনার মুখে পড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, মস্কোর তেলের বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সেই যুদ্ধে ব্যয় হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পারাপার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সামযয়িকভাবে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেল বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছে, কারণ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ার তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
মস্কো থেকে এএফপি জানায়, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার স্বার্থ ‘বিশ্ব শক্তি বাজার স্থিতিশীল করার প্রয়োজনে একমত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কিছুটা হলেও বাজার স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।’
কিন্তু তিনি যোগ করেন, ‘রাশিয়ার তেলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ছাড়া বাজার স্থিতিশীল করা অসম্ভব।’
নিষেধাজ্ঞা শিথিল ‘অপরিহার্য’
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে রাশিয়া হতে পারে বিজয়ী, কারণ বাড়তি তেলের দাম মস্কোর রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ঘাটতি পূরণে সাহায্য করছে।
প্রো-ক্রেমলিন সংবাদপত্র ইজভেস্টিয়ার প্রতিবেদনের মতে, প্রতি ব্যারেল ১১ ডলার বৃদ্ধি পেলে রাশিয়ার বার্ষিক আয় ২৮ বিলিয়ন ডলার বাড়বে।
মস্কো ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর থেকে প্রতি বছর বাজেট ঘাটতি দেখিয়েছে, কারণ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যুদ্ধের জন্য সামরিক ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছেন।
২০২৬ সালের শুরুতে তেল ও গ্যাস আয় পাঁচ বছরের নিম্নমাত্রায় ছিল, যা নিষেধাজ্ঞা, উৎপাদন সমস্যা এবং ইউক্রেনের প্রতিশোধমূলক হামলার কারণে প্রভাবিত হয়েছে।
রাশিয়ার অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিভ শুক্রবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে, তা ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কার্যত স্বীকার করছে যে রাশিয়ার তেল ছাড়া বিশ্ব শক্তি বাজার স্থিতিশীল থাকতে পারবে না।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘জ্বালানি সংকট বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্রাসেলস ব্যুরে ক্রেটের প্রতিরোধ সত্ত্বেও, রাশিয়ার জ্বলানি উৎসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা ক্রমশ অপরিহার্য মনে হচ্ছে।’
জি৭-এর প্রতিরোধ
ইউরোপ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।
জি৭-র সভাপতিত্বে থাকা ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা ‘কোনোভাবেই’ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য যৌক্তিক নয়।
তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত মত হলো আমরা রাশিয়ার প্রতি আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করা উচিত নয় এবং ইউক্রেনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা বজায় রাখা উচিত।’
জার্মান অর্থমন্ত্রী ক্যাথেরিনা রাইছে বলেন, ‘আমরা চিন্তিত যে আমরা আরও পুতিনের যুদ্ধ তহবিল পূরণ করছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ
বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমোদন জারি করেছে, যা ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে লোড করা হয়েছে এবং ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে।
এই পদক্ষেপের আগে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে সমুদ্রের মধ্যে থাকা রাশিয়ার তেল ভারতের কাছে বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এটি ‘সঙ্কীর্ণ, স্বল্পকালীন পদক্ষেপ’ এবং এটি ‘রাশিয়ান সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে না।’
ইউরোপীয় পরিস্থিতি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সামুদ্রিক আমদানি বন্ধ করেছে, আর ইউক্রেনের মাধ্যমে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় পাইপলাইন রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
ইউক্রেন বলছে, ড্রুজবা পাইপলাইন যা দুইস্থলবেষ্টিত দেশে তেল সরবরাহ করে, জানুয়ারিতে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নরওয়ের শক্তি মন্ত্রী টারজে আসল্যান্ড বলেছেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়া রাশিয়ার গ্যাস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্লকের ভেতরে বিতর্ক পুনরায় চালু হতে পারে।’
এই সপ্তাহের শুরুতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপকে তেল সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যদি তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, কিন্তু তা ‘দীর্ঘমেয়াদি’ এবং ‘রাজনৈতিক চাপমুক্ত’ শর্তে হবে।