বাসস
  ১৩ মার্চ ২০২৬, ২০:০২

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করতে প্যারিসে জেলেনস্কি

ঢাকা, ১৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার প্যারিসে পৌঁছেছেন বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এই সফর এমন সময় হচ্ছে যখন কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের যে আলোচনা চলছিল, তা যুক্তরাষ্ট্রুইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, জেলেনস্কির মুখপাত্র সেরহি নিকিফোরভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে প্যারিসে পৌঁছেছেন।’ 

তিনি জানান, স্থানীয় সময় দুপুরের শুরুতে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ফ্রান্সে এটি জেলেনস্কির দ্বাদশ সফর। বৈঠকের পর একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ক্রেমলিন চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছে, এই বৈঠক শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং ‘রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করার ধারণাটিই হাস্যকর।’

ফরাসি প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, মাখোঁ ও জেলেনস্কির আলোচনায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কিছু তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। এর আগে তার প্রশাসন রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার সাময়িকভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত-এর কাছে বিক্রি করা যায়।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোমানিয়া সফর করেন। সেখানে তিনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেন এবং বুখারেস্ট-এর সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদন শুরু করার বিষয়ে সম্মত হন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং উভয় পক্ষের কয়েক লাখ সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

জেলেনস্কির এই সফর এমন সময় হচ্ছে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হাঙ্গেরি ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৯০ বিলিয়ন ইউরো (১০৬ বিলিয়ন ডলার) ঋণ অনুমোদন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে।

হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুজবা পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে দেরি করছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল ওই দুই স্থলবেষ্টিত দেশে সরবরাহ করা হয়। ইউক্রেন জানিয়েছে, জানুয়ারিতে রাশিয়ার হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলস জানিয়েছে, বন্ধ হয়ে থাকা ওই তেল পাইপলাইন পরিদর্শনের জন্য একটি মিশন পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কিয়েভের জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে জেলেনস্কি বলেছেন, পাইপলাইনটি আবার চালু করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।