শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে রাজ্য পুলিশ।
বুধবার এই বিক্ষোভে ইকুয়েডরের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসহ আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।
যুক্তরষ্ট্রের ডিলি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ডিলির সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের বাইরে প্রায় ১০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন।
এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করার অভিযোগ লেখা থাকে।
স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা মোরালেস এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ক্রিস্টি নোয়েমের অভিশংসন চাই। আমরা চাই মার্কিন সিনেট আইসিইকে অর্থায়ন বন্ধ করুক। আর এ বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে মানুষের দৃষ্টি দিতে হবে।’
বিক্ষোভ দমনে টেক্সাসের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরে মাঠে নামে।
তারা বিক্ষোভকারীদের দিকে একাধিক টিয়ার গ্যাস ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করে।
এই টিয়ার গ্যাস ক্যানিস্টারগুলোর একটি এএফপি’র দুই সাংবাদিকের কাছাকাছি পড়লে, একজন সাংবাদিক সাময়িকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন।
এর আগে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জোয়াকিন কাস্ত্রো ও জ্যাসমিন ক্রকেট আটক কেন্দ্রে পরিদর্শনে যান। সেখানে তারা পাঁচ বছর বয়সী শিশু লিয়াম কোনেখো রামোসসহ প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আটক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় কাস্ত্রো বলেন, ‘তার (লিয়াম কোনেখো রামোস) বাবা বলেছেন, সে আগের মতো নেই। হতাশা ও বিষণ্নতার কারণে সে বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে থাকে।’
কাস্ত্রো জোর দিয়ে বলেন, রামোস ও তার পরিবার ‘আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিল।’
মিনিয়াপোলিসে শিশুটির বাবাকে গ্রেফতারের সময় অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা প্রিস্কুল শিক্ষার্থীর ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নীল রঙের খরগোশ আকৃতির টুপি ও স্কুল ব্যাগ পরা শিশুটিকে কর্মকর্তারা ধরে নিয়ে যান।
বিদ্যালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক জানান, ২০ জানুয়ারি বাড়ি ফেরার সময় ড্রাইভওয়ে থেকে শিশুটি ও তার ইকুয়েডরীয় বাবা আদ্রিয়ান কোনেখো আরিয়াসকে আটক করা হয়। কর্মকর্তারা বাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বের করে আনতে শিশুটিকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার এক ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে তাদের বহিষ্কারের আদেশ স্থগিত করেন।
কাস্ত্রো বেসরকারিভাবে পরিচালিত ওই আটক কেন্দ্রে থাকা অন্য সবার মুক্তির দাবিও জানান। তিনি বলেন, ‘ডিলিতে কোনো অপরাধী নেই।’
এ ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটি অবৈধ অপরাধী ‘এলিয়েন’ ধরার ব্যাপার।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কাস্ত্রো বলেন, এটা তার (ট্রাম্পের) ভাষ্য। তবে সেখানে একজনও অপরাধী নেই।