বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৭

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনে দ. আফ্রিকায় বন্যা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে: গবেষণা

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় জানুয়ারি মাসে মাত্র ১০ দিনে এক বছরের সমান বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ‘সক্রিয়ভাবে আরও ভয়ঙ্কর’ হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ)’র বিজ্ঞানীরা এমনটাই জানিয়েছেন।

জোহানেসবার্গ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ডিসেম্বর থেকে অবিরাম বর্ষণের কারণে মোজাম্বিকের বিশাল অংশ পানিতে ডুবে গেছে। এই বন্যায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের ক্ষতি হয়েছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতেও প্রানহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আবহাওয়ার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক দল ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) নেটওয়ার্কের বিজ্ঞানীরা এক প্রতিবেদনে জানান, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১০ দিনের তীব্র বৃষ্টিপাতে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি তীব্র হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ থেকে ১৯ জানুয়ারি মোজাম্বিকের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাজা প্রদেশে ৫০০ মিলিমিটার  বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা প্রায় পুরো বছরের গড় বৃষ্টিপাতের সমান।

রয়্যাল নেদারল্যান্ডস মেটেরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ইজিদাইন পিন্টো বলেন, ‘মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।’

এক সংবাদ সম্মেলনে পিন্টো বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি, সঙ্গে উচ্চ ঝুঁকি ও প্রকাশ্য ক্ষয়ক্ষতি মিলে মোজাম্বিকের ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বন্যায় রূপ নিয়েছে।’

শীতল আবহাওয়ার লা নিনা নামের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দক্ষিণ আফ্রিকায় গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি বয়ে আনে। এই পরিস্থিতি  বৃষ্টিপাতের তীব্রতার জন্য প্রায় ২২ শতাংশ দায়ী।

মোজাম্বিকের ন্যাশনাল ডিজাসটারস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টটিউট (আইএনজিডি) জানায়, ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় প্রায় ১৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। 

নদী তীর ভেঙে যাওয়ায় কিছু এলাকার রাস্তাঘাট সড়ক চলাচল  বিচ্ছিন্ন  হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার লিমপোপো ও ম্পুমালাঙ্গা প্রদেশেও বন্যায় ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এতে বিখ্যাত ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কসহ বহু মূল্যাবান সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞান অধ্যাপক ফ্রিডেরিক ওটো এই ভয়াবহ বন্যাকে ‘জলবায়ু অসাম্যের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ বলে আখ্যা দেন। 

তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে ও ইসোতিনী কোনোভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখেনি এবং এই দেশগুলো তেল, গ্যাস বা কয়লা বিক্রি করেও লাভবান হয়নি। কিন্তু তারপরও তারা প্রাণ, বাসস্থান ও জীবিকা হারাচ্ছে।