শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভেনেজুয়েলার তেল খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানিগুলোর প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হলো।
এই বিষয়টিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান দাবি।
কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংসদে প্রথম পাঠে অনুমোদন পেয়েছে একটি বিল।
ওই বিলে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে স্বাধীনভাবে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় পাঠে বিলটি পাস হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে কয়েক দশকের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল হবে। এই নিয়ন্ত্রণ ২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে আরও কঠোর করেছিলেন মাদুরোর প্রয়াত রাজনৈতিক গুরু ও সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো শাভেজ।
বিলটির পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন মাদুরোর সাবেক উপ-প্রধান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।
ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেন।
বৃহস্পতিবার রদ্রিগেজের নেতৃত্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে প্রশংসা করে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেলের একটি অংশ পাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের কর কমবে। ভেনেজুয়েলা তাদের ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো করবে।’
এদিকে, একই দিনে কারাকাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে লরা এফ. ডোগুকে ভেনেজুয়েলার নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি এর আগে নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
এই নিয়োগকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-সম্পর্ক উষ্ণ হতে যাচ্ছে-
২০১৯ সালে তখনকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পুনরায় নির্বাচনের বিরোধিতার পর, দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক এখন দ্রুত উষ্ণতার দিকে যাচ্ছে।
এই বছরের ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে কারাকাসে আটক করার পর, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে গিয়ে দূতাবাস পুনরায় খুলতে আলোচনা শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করছেন। রদ্রিগেজ ছিলেন কট্টর মার্কিন বিরোধী মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেল মন্ত্রী এবং তিনি এখনও এই পদগুলো ধরে রেখেছেন।
বুধবার এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, রদ্রিগেজ দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রে সফর করবেন, যদিও ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা এখনও রয়ে গেছে।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার বিরুদ্ধে ড্রাগ পাচারের অভিযোগে নিউ ইয়র্কে বিচার চলবে। তার স্ত্রীকেও তার সঙ্গে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রদ্রিগেজ ট্রাম্পের তেলের প্রতি খোলামেলা আগ্রহ মেনে নিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বুধবার বলেন, ‘আমরা একটি সংলাপের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছি।’
দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে।