শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংস ফ্যাক্টস এর অফিসিয়াল পেজে আজ এক পোস্টে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রেস উইংস ফ্যাক্টস পোস্টে হয়েছে, 'একাধিক ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে ৬ মাস পরে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে ইউনূস সরকার।'
এ সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘সংসদ সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করলে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে বাধা তৈরি হবে—এমন ধারণা মোটেই সঠিক নয়। সংসদ প্রথম দিন থেকেই নির্বাচিত হওয়ার পর তার স্বাভাবিক কার্যাবলি যেমন: সরকার গঠন, দেশ পরিচালনা ও বাজেট তৈরির কাজ করবে। তবে বিদ্যমান সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরিয়ে আনতে মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজন। এ জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কারের কাজ শেষ করবেন।’
প্রেস উইংস ফ্যাক্টস পোস্টে বলা হয়েছে, আলী রীয়াজ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে-এমন কথা বলেননি; বরং নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়াও, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে-যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ সরকার হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কাজ করবেন, অন্তর্বর্তী সরকার নয়।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—
৭। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, এর কার্যাবলি ও বিলুপ্তি।
(১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে—
(ক) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে;
(খ) ওই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন;
(গ) পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হইতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তাহা সম্পন্ন করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। ৭ অনুচ্ছেদের (খ) অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। জনপ্রতিনিধিগণ একদিকে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সংবিধান সংস্কারের গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আদেশ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হবে। তখন থেকে সংসদের আর দ্বৈত ভূমিকা থাকবে না; জনপ্রতিনিধিগণ কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।
এই আদেশে ১৮০ দিন অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকাই উল্লেখ করা হয়েছে।