শিরোনাম

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভাবে উপস্থাপন শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, স্বেচ্ছাসেসবক দলের নেতার হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সালাহউদ্দিন আহমেদের একটি বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ নিয়ে গণমাধ্যমে ও ফেসবুকে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। তার পুরো বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের গত বুধবার ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ঢাকা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের খণ্ডিতাংশ গণমাধ্যমে ও ফেসবুকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে বলা হচ্ছে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেছেন। তবে তার পুরো বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তিনি এই ধরনের কিছু হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে, সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং এগুলো পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রর অংশ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বক্তব্যের আগে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘নির্বাচনের আর বেশিদিন নেই। এ সময় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বিভিন্ন জায়গায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে অনেকে নিহত হচ্ছে। গতকালও স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নিহত হলো। এই বিষয়টি একটু বলবেন?’
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি এরকম কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। গতকালকের ঘটনাও তারই অংশ। এটা হতে পারে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির কিছু কিছু ষড়যন্ত্র এখনো তারা চালু রেখেছে, যাতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, কণ্টকাকীর্ণ করতে পারে। গণতন্ত্রের উত্তোরণের পথটাকে সহজতর না করতে পারে। কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা কখনো সফল হবে না। এদেশের মানুষ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ। গণতন্ত্রে তারা ফিরবেই এবং একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচনের জন্য আমরা সবাই অপেক্ষা করছি। সারা জাতি অপেক্ষমান।’
এই বক্তব্যের ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি এরকম কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে’ অংশটুকু নিয়েই বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অথচ তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যান্য ঘটনাবলীর সঙ্গে মিলিয়ে, এগুলো ‘গণতন্ত্রের উত্তোরণের পথ’ কঠিন করার ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং দেশের কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হচ্ছে।
‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি'র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।