শিরোনাম

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সেনা কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি বলে সনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনা কর্মকর্তার ছড়ানো ভিডিওটি আসল নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে সনাক্ত করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তাদের সাধারণত প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করতে দেখা যায়না।
সেনাবাহিনীর আইন অনুযায়ী তারা কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নিতে পারে না। কোনো সেনাসদস্য ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। তাই সামরিক পদে থাকাকালীন কেউ এমন বক্তব্য দিয়ে থাকলে তার উল্লেখ নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যেত। কিন্তু এই ভিডিওতে থাকা বক্তব্যগুলো তেমন কোনো মাধ্যম থেকে পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কমেন্ট বক্স দেখলে বুঝা যাবে অনেকেই ভিডিওটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এরপরে আলোচিত ভিডিওটি খেয়াল করলে কিছু ভিজ্যুয়াল ত্রুটি দেখতে পাওয়া যাবে।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা হিসেবে সেনা কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ২০২৪ সাল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং দেশের কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হচ্ছে।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।