বাসস
  ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৯

ভাষা দিবস, সরস্বতী পূজা, জন্মাষ্টমীর ছুটি বিষয়ে ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যা প্রচার : ফ্যাক্টচেক

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশে ২০২৬ সালে ভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি), সরস্বতী পূজা ও জন্মাষ্টমীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তির অপপ্রচার শনাক্ত করেছে দেশের ফ্যাক্টচেক টিমগুলো।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এবং স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ‘ফ্যাক্টওয়াচ’ নিশ্চিত করেছে যে ছুটি বাতিলের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিভ্রান্তির উৎস ও আসল সত্য 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’ ছুটি বাতিলকে ‘মৌলবাদী কোপ’ আখ্যা দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। এছাড়া শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, পবিত্র সরকার এবং সুবোধ সরকার ভারতের এ তিনজন পরিচিত সাহিত্যিক এই ভিত্তিহীন খবরের ওপর ভিত্তি করে ‘ভাষা দিবসে ছুটি বাতিল আত্মঘাতী আচরণ’ বলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে, ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সরস্বতী পূজা ও জন্মাষ্টমী পড়েছে শুক্রবারে এবং ভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি) পড়েছে শনিবারে। বাংলাদেশে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সরকারি ছুটির তালিকায় এগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত হয়নি, কিন্তু দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষিত রয়েছে।

এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকায় দাবি করা হয়েছিল যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভাষা দিবস ও মে দিবসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় দিবসকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

তবে ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে এমন কোনো তথ্য নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এগুলোকে আলাদা দিন হিসেবে গণ্য করা হয়নি মাত্র। এর আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯টি ছুটির দিন নিয়ে একই ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদের ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করেছিল বাংলাফ্যাক্ট।

অপপ্রচারের প্রবণতা ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখ করেছে, গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ভারতভিত্তিক বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ভুল ও উস্কানিমূলক তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে হেয় করতেই এই অপকৌশল নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে চলমান গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারনাল রিসোর্সেস অ্যান্ড সার্ভিসেস (ইউ ল্যাব) অনুমোদিত সংস্থা ‘ফ্যাক্টওয়াচ’ এবং পিআইবি’র ‘বাংলাফ্যাক্ট’। তারা সাধারণ মানুষকে কোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।