বাসস
  ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৭:২৮

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ হাজার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন পেয়েছে বিএফআইইউ

ছবি : বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর) পেয়েছে।

এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি। এর মাধ্যমে আর্থিক খাতের তদারকি জোরদার হওয়া এবং অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড শনাক্তকরণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত বিএফআইইউ’র বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট প্রতিবেদনের মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর)।

বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মো. মামুন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটির নিবিড় নজরদারির ফলেই এই বিপুল বৃদ্ধি ঘটেছে, যার কারণে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত জুড়ে সন্দেহজনক লেনদেনগুলো আরো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে রিপোর্টিং সংস্থাগুলোর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনলাইন জুয়া, বেটিং, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডিসংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে এসটিআর ও এসএআরের সংখ্যা বেড়েছে।

গত পাঁচ অর্থবছরে এসটিআর এবং এসএআর-এর সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ২৮০টি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টি।

আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রধান উৎস হিসেবে বরাবরের মতোই ব্যাংকিং খাত শীর্ষে রয়েছে। তারা ২৮ হাজার ৭৫৫টি এসটিআর এবং এসএআর জমা দিয়েছে, যা মোট প্রতিবেদনের প্রায় ৯৫ শতাংশ। এটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১৫ হাজার ৯৯১টি প্রতিবেদনের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ হাজার ৮০৯টি প্রতিবেদনের দ্বিগুণেরও বেশি।

এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫০টি এবং অর্থ প্রেরণকারী (মানি রেমিটার) প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৯৫টি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা মোট প্রতিবেদনের যথাক্রমে প্রায় ১ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বিএফআইইউ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যের জন্য বিভিন্ন সংস্থার অনুরোধ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১ হাজার ১৫৭টি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৩২৯টিতে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সর্বাধিক সংখ্যক তথ্য চেয়েছে।

এছাড়া, ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) কাঠামোর আওতায় ব্যাংকগুলো ৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার নগদ লেনদেনের তথ্য দিয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।  আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৪৮৪টি নগদ লেনদেনের তথ্য দিয়েছে, যার মূল্য ছিল ২১৭ কোটি টাকা।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, সিটিআর (নগদ লেনদেন প্রতিবেদন) জমা দেওয়ার হার কমে আসা মূলত ক্যাশলেস বা নগদবিহীন এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।