বাসস
  ০৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:০০

স্যামসাংয়ের মুনাফা বৃদ্ধিতে আস্থা ফেরেনি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতায় দ. কোরিয়ার বাজারে পতন

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : এশিয়ার শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার মিশ্র প্রবণতার দিনে আবারও বড় দরপতনের নেতৃত্ব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থানে বিপুল মুনাফা করলেও চিপ জায়ান্ট স্যামসাংয়ের শেয়ারের বড় পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এআই-নির্ভর রেকর্ড প্রবৃদ্ধির ধারা হয়তো শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে দীর্ঘ ছুটির পর তিনটি প্রধান সূচকই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শুরু করলেও এশিয়ার বিনিয়োগকারীরা সেই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে পারেননি। অ্যামাজন ও অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের উত্থানে ওয়াল স্ট্রিটে সূচকগুলো বেড়েছে।

এতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রযুক্তি খাতে মন্দার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগ থেকে পর্যাপ্ত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং মঙ্গলবার জানিয়েছে, এআই-চালিত মেমোরি চিপের চাহিদার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১ হাজার ৮০০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।

তবে এ ঘোষণার পরও দিনের শুরুতে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়। এর প্রভাবে দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক কোস্পি প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে যায় এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা দরপতন আরও তীব্র হয়।

চলতি বছরের জুনে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে কোস্পি সূচক দ্বিগুণের বেশি বেড়েছিল। তবে এরপর থেকে সূচকটি প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে।

এদিকে, প্রত্যাশিত আয়ের মৌসুমের শুরুতেই এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো। এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এই আয়ের প্রতিবেদনগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘স্যামসাংয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রাথমিক হিসাব কাগজে-কলমে অসাধারণ।’

তিনি বলেন, ‘এআই মেমোরি চিপের চাহিদা এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী, সরবরাহ সীমিত রয়েছে এবং বড় মেমোরি চিপ নির্মাতারা এমন মুনাফার হার অর্জন করছে, যা কয়েক বছর আগেও অবিশ্বাস্য মনে হতো।’

তিনি বলেন, বাজার এখন ‘নিখুঁত ফলাফলের প্রত্যাশা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করছে। ভালো ফলাফল এখন আর যথেষ্ট নয়, এমনকি অসাধারণ ফলাফলও বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না।

ইনেস আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শুধু গত প্রান্তিকের ফলাফল দেখছেন না; তারা বিচার করছেন আগামী কয়েকটি প্রান্তিকের ফলাফল এমন একটি প্রবৃদ্ধির ধারা ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না, যা ইতোমধ্যে প্রায় উল্লম্ব গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।’