বাসস
  ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪০

এসএমই উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি মোকাবেলায় বীমার উদ্ভাবনী ধারণায় মিলবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবেলায় বীমার উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করলে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশন ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উদ্যোগে ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে একটি হোটলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই প্রতিযোগিতার আওতায় সর্বোচ্চ দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার

(বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯ লাখ টাকা) করে পুরস্কার দেওয়া হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) সহায়তায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. ওবায়দুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম হাসান সাত্তার।

অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এই ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ফান্ড নিয়ন্ত্রক অনুমোদিত উদ্ভাবনী বীমা সমাধান উৎসাহিত করবে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও নতুন বিতরণ চ্যানেলের ব্যবহার বাড়াবে এবং বিশেষভাবে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও গ্রামীণ এলাকার সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও দেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান মাত্র অল্পসংখ্যক উদ্যোক্তা। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১৪ শতাংশ উদ্যোক্তা ঋণ সুবিধা পেলেও প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের আওতার বাইরে রয়েছেন। এসব উদ্যোক্তাকে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপি যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসএমই খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং ইউএনডিপির পক্ষে আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপির ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাতের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে তিন কোটিরও বেশি মানুষ কর্মরত রয়েছে। সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশন ২০০৬ সাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ফাউন্ডেশনের এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তা উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা।