বাসস
  ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪২

জাতীয় পরিকল্পনায় আঞ্চলিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্য অন্তর্ভুক্তির আহ্বান সিপিডির

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জাতীয় গ্রিড স্থিতিশীল রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে আঞ্চলিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্যকে জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নিজস্ব কার্যালয়ে ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি) : ২০২৬-২০৫০’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা সহযোগী মো. মেহেদী হাসান শামীম, আবরার আহমেদ ভূঁইয়া, আতিকুজ্জামান সাজিদ, সাবিহা শারমিন, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মালিহা সাবাহ আলী এবং মো. খালিদ মাহমুদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি।

মূল প্রবন্ধে হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি বলেন, প্রস্তাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ‘ন্যাশনাল সোলার রুফটপ প্রোগ্রাম’-এর ওপর ভিত্তি করে অঞ্চলভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ইউটিলিটি স্কেল থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট এবং জাতীয় রুফটপ কর্মসূচি থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রাথমিক হিসাব জোনাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে করতে হবে।’

দেশের যেসব এলাকায় সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাবনা বেশি, সরকারকে সেসব অঞ্চলে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কার্বন ক্রেডিট (যা কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস বা বায়ুমণ্ডল থেকে শোষণ নির্দেশ করে) প্রসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ছাড়া কার্বন ক্রেডিটের অনুমতি দিলে তা জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই পর্যায়ে কার্বন ক্রেডিটকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হলে তা অনিচ্ছাকৃতভাবে কার্বন নিঃসরণকেই বৈধতা দেবে। তাই এ বিষয়ে কোনো কাঠামো তৈরির আগে গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘তাই একটি (কার্যকর) কাঠামো তৈরির আগে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।’

তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিমাপে একটি তদারকি ও মূল্যায়ন কাঠামো প্রয়োজন।

পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও দক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-র প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশও করেন তিনি।

তিনি এলএনজি আমদানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে (স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগ) বড় ধরনের বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

মাশিয়াত প্রিয়তি একইসঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাজের পরিধি ভাগ করা এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।