শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি জোরদারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সংস্থাটি তাদের দ্বিতীয় ‘সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৩’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
২০২০ সালে প্রকাশিত প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টের ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত এই দ্বিতীয় সংস্করণটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, রূপান্তর ও অগ্রগতির একটি শক্তিশালী প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, মোহাম্মদ সোহেল এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি অন সাসটেইনেবল এনার্জির চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান (শাপু) উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, দ্বিতীয় এই সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থান, অগ্রগতি এবং টেকসই রূপান্তরের একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ২০২০ সালে প্রথম রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, দ্বিতীয় এই রিপোর্টটি সেই প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কেবল উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। এই প্রতিবেদন দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, টেকসই ব্যবসায়িক চর্চা এবং একটি সহনশীল ও দায়িত্বশীল শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিজিএমইএ’র অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পের প্রকৃত অর্জনগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তিনি প্রতিবেদনের তথ্য সরবরাহে সহযোগিতা করা সদস্য কারখানাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিজিএমইএ জানায়, এই প্রকাশনাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড, কারিগরি উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করেছে সাসনেক্স লিমিটেড। বিজিএমইএ’র রেসপনসিবল বিজনেস হাব (আরবিএইচ) থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
ধারাবাহিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে পোশাক শিল্প নিয়ে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর হবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী অবস্থানে উন্নীত হবে বলে বিজিএমইএ বিশ্বাস করে।